গাজায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত ৬ তীব্র হচ্ছে মানবিক সহায়তা সঙ্কট
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
- পশ্চিমতীর দখলের ইসরাইলি পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা ওআইসির
- ফিলিস্তিনে জনসংখ্যা পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরাইল : জাতিসঙ্ঘ
গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলের বুরেইজ শরণার্থীশিবির এবং দক্ষিণের খান ইউনুসের আল-মাওয়াসি এলাকার দু’টি পুলিশ পোস্টে ড্রোন হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইল। ইসরাইলি বাহিনীর এই ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যে এসব হামলা চালানো হয়। খান ইউনুসের নাসের মেডিক্যাল কমপ্লেক্সের চিকিৎসা বিভাগের তথ্য মতে, আল-মাওয়াসির আল-মাসলাখ মোড়ে একটি পুলিশ চেকপোস্টে হামলার পর চারজনের লাশ হাসপাতালে আনা হয়। এতে আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, হামলাটি এমন এক এলাকায় হয়েছে যা ইসরাইলি বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
অন্য দিকে গাজার কেন্দ্রীয় অংশে বুরেইজ শরণার্থীশিবিরের প্রবেশপথে একটি পুলিশ পোস্টে একই ধরনের ড্রোন হামলায় আরো দুইজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এক বিবৃতিতে জানান, গাজাজুড়ে অব্যাহত বোমাবর্ষণে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার প্রতি ইসরাইলের স্পষ্ট অবজ্ঞার প্রতীক। তিনি অভিযোগ করেন, ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যত প্রতিদিনই লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং বাস্তবে যুদ্ধ থামানোর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
গাজা সিটি থেকে আলজাজিরার প্রকাশিত সংবাদের তথ্য মতে, এটি ছিল একটি রক্তাক্ত রাত। ইসরাইলি বাহিনী একাধিক প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছে, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে কাছাকাছি স্থাপিত পুলিশ চেকপোস্টগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ইসরাইল গাজায় নূ্যূনতম প্রশাসনিক সেবা পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। ফলে পুলিশসহ বেসামরিক সেবাগুলোর পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ দিকে গাজা ক্রসিংস অ্যান্ড বর্ডারস অথরিটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাফাহ ক্রসিং দিয়ে ৫০ জন ফিলিস্তিনি মিসরে প্রবেশ করেছেন, যার মধ্যে ১৩ জন রোগী ও ৩৭ জন তাদের সঙ্গী। একই দিনে ৪১ জন গাজায় ফিরে এসেছেন। বহু মানুষ জরুরি চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যেতে চান, তবে ইসরাইলের কড়াকড়ির কারণে যাতায়াত সীমিত রয়েছে।
সংস্থাটি আরো জানায়, বৃহস্পতিবার ২৮৬টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে, এর মধ্যে ১৭৪টি বাণিজ্যিক পণ্য ও ১১২টি ত্রাণবাহী ট্রাক। তবে মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, গাজার জনগণের চাহিদা পূরণে প্রতিদিন অন্তত ৬০০টি ত্রাণ ট্রাক প্রয়োজন। চলমান অবরোধ ও হামলার কারণে রমজান মাসেও খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সরবরাহে সঙ্কট অব্যাহত রয়েছে।
এ দিকে ইসরাইল ৩৭টি ত্রাণ সংস্থাকে আগামী ১ মার্চের মধ্যে তাদের ফিলিস্তিনি কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে, অন্যথায় কার্যক্রম বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংস্থাগুলো বলছে, এ ধরনের তথ্য প্রদান কর্মীদের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং মানবিক কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা ক্ষুণœ করতে পারে। ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস, অক্সফাম, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল ও কেয়ার ইন্টারন্যাশনালসহ ১৭টি আন্তর্জাতিক এনজিও ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্টে এ নির্দেশনার বিরুদ্ধে আবেদন করেছে। অক্সফাম সতর্ক করে বলেছে, গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে এর প্রভাব পুরো মানবিক ব্যবস্থার ওপর তাৎক্ষণিকভাবে পড়বে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর ওপর ইসরাইলের চাপ ক্রমেই বেড়েছে, যা বর্তমানে নতুন করে সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
পশ্চিমতীর দখলের ইসরাইলি পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা ওআইসির
জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) এক জরুরি বৈঠক থেকে অধিকৃত পশ্চিমতীরের বিশাল এলাকা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণার ইসরাইলি পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সংস্থাটি ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে। খবর আনাদোলুর।
বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসি সদর দফতরে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে এই জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠক শেষে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওআইসি জানায়, ইসরাইলের এই পদক্ষেপগুলো সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী। সংস্থাটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং নিরাপত্তা পরিষদকে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ইসরাইলি এসব কর্মকাণ্ড। ওই অঞ্চলে চরম অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। বিবৃতিতে ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির সাম্প্রতিক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে একে উসকানিমূলক বলে অভিহিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০ ফেব্রুয়ারি এক সাক্ষাৎকারে হাকাবি দাবি করেছিলেন যে নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস পর্যন্ত পুরো এলাকার ওপর ইসরাইলের ধর্মীয় অধিকার রয়েছে। ওআইসি বলেছে, এই বক্তব্যের কোনো আইনি বা ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই এবং এটি ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণœ করতে পারবে না।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলি মন্ত্রিসভা পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ ক্ষুণœ করে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সুবিধার্থে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের অধীনে থাকা জমি দখল করা এবং হেবরন শহরে ফিলিস্তিনিদের ক্ষমতা কমিয়ে সেখানে সমান্তরাল ইসরাইলি প্রশাসন গড়ে তোলা। ১৫ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলি সরকার পশ্চিমতীরে ভূমি নিবন্ধনের একটি একতরফা প্রক্রিয়া অনুমোদন করে, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ফিলিস্তিনি ভূমি জব্দের নামান্তর। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইল পশ্চিমতীরের দখলদার শক্তি হিসেবে বিবেচিত এবং এই এলাকাটি ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য সংরক্ষিত। অধিকৃত ভূখণ্ডে জনসংখ্যা স্থানান্তর বা মালিকানা পরিবর্তন আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ফিলিস্তিনে জনসংখ্যা পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরাইল : জাতিসঙ্ঘ
জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ইসরাইলের বিরুদ্ধে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের জনসংখ্যার কাঠামো স্থায়ীভাবে বদলে দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রবণতা জাতিগত নিধনের আশঙ্কা তৈরি করছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের। বৃহস্পতিবার জেনেভায় জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদে দেয়া বক্তব্যে হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, অধিকৃত পশ্চিমতীর এবং গাজায় ইসরাইলি কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হলো সেখানে একটি স্থায়ী জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন আনা। তুর্ক উল্লেখ করেন, উত্তর পশ্চিমতীরে এক বছর ধরে চলা ইসরাইলি সামরিক অভিযানের ফলে প্রায় ৩২ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এ ছাড়া রামাল্লাহর নিকটবর্তী এলাকা এবং জর্দান উপত্যকায় অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মুখে বেদুঈন পশুপালক সম্প্রদায়গুলোও নিজেদের ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিমতীরে ৩০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন। তাদের পাশাপাশি সেখানে পাঁচ লাখের বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী রয়েছে, যাদের এই বসবাস আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ইসরাইলের বর্তমান সরকারের আমলে এই বসতি সম্প্রসারণের গতি আরো বেড়েছে। পর্যবেক্ষণ সংস্থা পিস নাউ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে রেকর্ডসংখ্যক নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইসরাইলি সরকার পশ্চিমতীরের জমিকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধন করা এবং সরাসরি জমি কেনার সুযোগ দেয়ার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। হামাসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
গাজায় সেনা পাঠাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়া গাজায় এক হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী এপ্রিলের মধ্যে প্রথম দল পৌঁছাবে এবং জুনের মধ্যে মোট আট হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিসের অধীনে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হিসেবে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডনি প্রামোনো জানিয়েছেন, সেনারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে দেশটির ভেতরে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে গাজায় তাদের সেনাদের ভূমিকা কী হবে। সমালোচকরা বলছেন, জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধান ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার সেনারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব ইন্দোনেশিয়ার অধ্যাপক শফওয়ান আল বান্না বলেন, ইন্দোনেশিয়া সবসময় ফিলিস্তিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। যদি সেনারা দখলদারিত্বের অংশ হয়ে যায়, তা ফিলিস্তিনি ও ইন্দোনেশীয়দের জন্য কষ্টকর হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইন্দোনেশিয়ার সেনারা যেন ইসরাইলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় না যায়, কারণ এতে ইসরাইলি সেনাদের সাথে সমন্বয় করতে হবে, যা ইসরাইলকে কার্যত স্বীকৃতি দেয়ার সমান।
গাজা অবরোধ ভাঙতে ২০০টি জাহাজ নিয়ে প্রস্তুত ফ্রিডম ফ্লোটিলা
ফিলিস্তিনপন্থী কর্মী ও নাগরিক সংগঠনগুলো আগামী মাসে গাজা অভিমুখে বিশাল নৌ অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে। ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ ও ‘স্টেডফাস্টনেস কনভয়’ নামে এই উদ্যোগে প্রায় ২০০ জাহাজ অংশ নেবে বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ১২ এপ্রিল স্পেন, ইতালি ও তিউনিসিয়ার বিভিন্ন ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর থেকে জাহাজগুলো যাত্রা করবে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০০ নাগরিক সংগঠন এতে অংশ নিচ্ছে। তুরস্কের মানবাধিকার ও স্বাধীনতা ফাউন্ডেশনের প্রধান বুলেন্ট ইয়িলদিরিম জানিয়েছেন, ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা, তুরস্ক ও উপসাগরীয় অঞ্চলে তহবিল সংগ্রহ চলছে। তিনি বলেন, এত বড় বহর ইসরাইলের পক্ষে থামানো কঠিন হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রায় ১৫০ দেশের হাজারো মানুষ এতে অংশ নেবে। মাভি মারমারা ফ্রিডম অ্যাসোসিয়েশন, আইএইচএইচ ফাউন্ডেশন ও প্যালেস্টাইন সাপোর্ট প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন সংগঠন এ উদ্যোগকে সমর্থন দিয়েছে। ফ্লোটিলা শুধু মানবিক সহায়তা নয়, চিকিৎসক, শিক্ষক, অবকাঠামো ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী এবং যুদ্ধাপরাধ নথিভুক্তকারী তদন্তকারীদেরও গাজায় নিয়ে যাবে। এতে এক হাজারের বেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইয়িলদিরিম বলেন, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে কঠোর বাধা দেয়া হচ্ছে। ফলে খাদ্যসঙ্কট ও রোগব্যাধি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ কারণেই সমুদ্রপথ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।