এক বছরে ৩ বাংলাদেশীকে হত্যা

দোয়ারাবাজার সীমান্তে নির্বাচনের আগে বিদেশী অস্ত্র ঢোকার আতঙ্ক

Printed Edition
bangla-7
দোয়ারাবাজার সীমান্তে নির্বাচনের আগে বিদেশী অস্ত্র ঢোকার আতঙ্ক

সোহেল মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্তে গত এক বছরে ভারতীয় বিএসএফের হাতে তিনজন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। এদিকে আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে বিদেশী অস্ত্র প্রবেশের গুঞ্জনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সীমান্তবাসীর মধ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গত ১৫ ডিসেম্বর দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর-শ্যামারগাঁও এলাকার লাফার্জ সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয়ের কালাটেক বস্তি এলাকা থেকে আহাদ মিয়া (৪০) নামে এক বাংলাদেশী কারবারির লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

এর আগে গত ১১ জুলাই রাতে উপজেলার বাগানবাড়ি সীমান্তের ১২১৬ নম্বর পিলারের কাছে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন শফিকুল ইসলাম (৪৫)। একই বছরের ১০ এপ্রিল পেকপাড়া মোকামছড়া গ্রামের বাসিন্দা কুটি মিয়া (৫০) ভারতের মেঘালয়ের নথরাই পুঞ্জি এলাকায় খাসিয়াদের গুলিতে প্রাণ হারান।

অন্য দিকে, গত ২১ জুলাই সোনালী চেলা সীমান্ত এলাকা থেকে সিরাজ মিয়া (৫০) ও মো: আলিমুদ্দিন (২৫) নামে দুই বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। এ ছাড়া ১০ আগস্ট বাংলাবাজার ইউনিয়নের মৌলারপাড় এলাকা থেকে তিন বাংলাদেশীসহ ১৪টি গরু আটক করা হয়। পরে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকের মাধ্যমে এসব ঘটনার নিষ্পত্তি হয়।

চোরাচালানের পাশাপাশি অস্ত্র পাচারের ঘটনাও উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৭ আগস্ট গভীর রাতে বাংলাবাজার ইউনিয়নের মৌলার ব্রিজ এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছয় রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশী (যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি) রিভলবার জব্দ করে বিজিবি। এর আগে ৩১ অক্টোবর পার্শ্ববর্তী ছাতক উপজেলার ছনবাড়ী সীমান্ত এলাকা থেকে একটি বিদেশী রিভলবার, দুটি ডেটোনেটর ও প্রায় ২৫০ গ্রাম উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় এসব বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, গত এক বছরে দোয়ারাবাজার সীমান্ত থেকে অন্তত ৫০ কোটি টাকার মাদক ও বিভিন্ন চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও চোরাচালান বন্ধ হয়নি। প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ফজরের আজান পর্যন্ত কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চলে।

স্থানীয়রা জানান, বাংলাবাজার ও নরসিংপুর এলাকা চোরাকারবারিদের মধ্যস্থতার প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউরা পয়েন্ট এবং নরসিংপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর ও শ্যামারগাঁও এলাকায় তারকাঁটার বেড়া না থাকায় সহজেই মাদক, অস্ত্র ও চোরাই পণ্য প্রবেশ করছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি এ পাচার বাণিজ্যের সাথে জড়িত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সোর্স ব্যবহার করে পাচারকারীরা অর্থ লেনদেন করায় বড় কোনো চক্র ধরা পড়ছে না।

দোয়ারাবাজার উপজেলায় সীমান্ত এলাকায় ছয়টি বিওপি ক্যাম্প রয়েছে। চোরাচালানি রুট হিসেবে পরিচিত কলাউরা, শ্রীপুর ও শ্যামারগাঁও এলাকায় প্রতি রাতে বিপুল অঙ্কের লেনদেন হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক-দোয়ারা সার্কেল) শেখ মো: মুরসালিন বলেন, ‘চোরাচালান রোধে পুলিশ কাজ করছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হক বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন সদর দফতরের নির্দেশনায় সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’