মিরসরাইয়ে দেদার পাহাড় উজাড় বাড়ছে ভূমিধসের ঝুঁঁকি

Printed Edition
bangla-1
দিনের বেলায় পাহাড় কেটে নিয়ে যাচ্ছে মাটিখেকোরা : নয়া দিগন্ত

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় অবাধে চলছে পাহাড় কাটা। দিন-রাত কাটা হচ্ছে পাহাড়। সে পাহাড়ের মাটি ট্রাকভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দূরে, বিক্রি করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকায়। এ ভাবেই পাহাড়ের মাটি কেটে একটি প্রভাবশালী চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের প্রতিবাদ সত্ত্বেও বন্ধ হচ্ছে না এ অবৈধ কর্মকাণ্ড। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে ভয়াবহ ভূমিধসের ঝুঁঁকি।

সম্প্রতি (গত ১৬ মার্চ) উপজেলার দক্ষিণ অলিনগর এলাকায় পাহাড় থেকে মাটি কাটার সময় ধস নেমে জামশেদ আলম নামের এক শ্রমিক নিহত হন। আহত হন আরো দু’জন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও পাহাড় কাটা থামেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে। এসব মাটি ট্রাক ও পিকআপে করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি খাস জমির পাহাড় কেটে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, অন্য দিকে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ২ নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী, সাইবেখিল, ঘেড়ামারা, কয়লা, বদ্ধভবানী, জিলতলী ও মেহেদীনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা চলছে। কোথাও দিন-দুপুরে, আবার কোথাও রাতের আঁধারে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি চক্র প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করেই তারা এ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পাহাড় কাটা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে পাহাড় কাটার ফলে বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কাটা পাহাড় ধসে পড়ে বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমির ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি পাহাড়ি গাছপালা, পাখি ও বন্যপ্রাণির আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও তা বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো: মোজাহিদুর রহমান বলেন, পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কেউ এতে জড়িত থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার জানান, কোথাও পাহাড় কাটার খবর পেলেই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। সম্প্রতি করেরহাট এলাকায় এ ধরনের অপরাধে জরিমানাও করা হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, স্থায়ীভাবে পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া কোনও বিকল্প নেই। অন্যথায় মিরসরাইয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।