কে হচ্ছেন স্পিকার ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ উপনেতা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আজ বৃহস্পতিবার বসবে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এ অধিবেশনেই ঠিক হবে সরকারি দলের সংসদ উপনেতা এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। ফলে এসব পদে কে আসছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।
সূত্র মতে, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সংসদ নেতা হন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ নেতার অনুপস্থিতিতে সরকারি দলের সংসদ উপনেতা সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ পদটি মন্ত্রী পদমর্যাদার হওয়ায় সংসদে তার জন্য আলাদা অফিসসহ মন্ত্রীদের মতো সুযোগ-সুবিধা থাকে। সংসদ উপনেতা পদে সাধারণত দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাই মনোনয়ন পেয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগের সময়ে সাজেদা চৌধুরী ও মতিয়া চৌধুরী ছিলেন। খালেদা জিয়ার সময়কালে অধ্যাপক ডা: বদরুদ্দৌজা চৌধুরী সংসদ উপনেতা ছিলেন। পরের সংসদগুলোতে আলোচনায় ছিলেন এম সাইফুর রহমান ও মান্নান ভূঁইয়া।
জানা গেছে, এই পদে বিএনপির জন সিনিয়র নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খান। এদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামই বেশি আলোচনায় রয়েছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবেও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। ফলে উপনেতা হিসেবে আপাতত তিনি দায়িত্ব পালন করলেও পরে তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অথবা ড. আব্দুল মঈন খানকে উপনেতা করা হতে পারে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সংসদের স্পিকার পদে ড. আব্দুল মঈন খানের নাম আলোচনায় থাকায় উপনেতা হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের নামও আলোচনায় এসেছে। তবে তাকে এ পদে বিবেচনা করা হলে আগে সংরক্ষিত মহিলা আসনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হতে হবে, কারণ তিনি সরাসরি নির্বাচিত এমপি নন।
সূত্র জানায়, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পাশাপাশি সংসদ উপনেতা নির্বাচনের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। এ নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। রাষ্ট্র ও সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতাদের দায়িত্ব দিতে চাইছে দলটি।
এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান সংবিধানে সংসদ উপনেতা নির্বাচনের সরাসরি কোনো বিধান নেই। তবে অতীতে এ পদে নিয়োগ দেয়ার নজির রয়েছে এবং দলের ভেতরে অনেকের মতে এ পদটির প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আজকের অধিবেশনের সভাপতিত্ব করতে পারেন। তবে তিনি কোনো কারণে সভাপতিত্ব করতে অক্ষম হলে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর তার সভাপতিত্বেই সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।
স্পিকার পদের জন্য ড. মঈন খান ও মেজর হাফিজ ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদীন। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নামও। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। জানা গেছে, এই কয়েকজনের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করার সম্ভাবনাই বেশি।
হুইপ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া আর কেউ জানেন না, কে হতে যাচ্ছেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। সংসদ পরিচালনায় যাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের মধ্য থেকে একজন হতে পারেন।
জামায়াত নাম না দিলে প্রথম দিনে দলীয় এমপিদের মধ্য থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করবে বিএনপি। এ পদের জন্যও কয়েকটি নাম আলোচনায় রয়েছে। আলোচনায় রয়েছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নাম।