ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তারা

মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত তাদের স্বার্থে সহায়তা করেছে

জেনারেল ওসমানীকে মরণোত্তর ফিল্ড মার্শাল করার প্রস্তাব

Printed Edition
back-1
রাওয়া ক্লাবে জেনারেল ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারত তার স্বার্থে আমাদের যুদ্ধে সহায়তা করেছে। যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করলেও ভারত এক প্রকার বিজয় ছিনতাই করে নিয়েছে। যেখানে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর কাছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ করবে, সেখানে ভারত কৌশলে তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করিয়েছে। গতকাল সোমবার রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (রাওয়া) হেলমেট হলে আয়োজিত জেনারেল ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।

এ সময় স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বাধিনায়ক জেনারেল (অব:) এম এ জি ওসমানীকে মরণোত্তর ফিল্ডমার্শাল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ দিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করা হয়।

রাওয়ার দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনে বিজয়ী মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাওয়ার চেয়ারম্যান কর্নেল (অব:) মোহাম্মদ আবদুল হক, শুভেচ্ছ বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল লে. কর্নেল (অব:) আবু নওরোজ খোরশেদ। বক্তব্য রাখেন সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) এ জি মাহমুদ, মেজর জেনারেল (অব:) জামিল হাসান (বীর প্রতিক), প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারত তার স্বার্থে আমাদের যুদ্ধে সহায়তা করেছে। যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করলেও ভারত এক প্রকার বিজয় ছিনতাই করে নিয়েছে। যেখানে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর কাছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ করবে, সেখানে ভারত কৌশলে তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করিয়েছে। তার কারণও আছে। জেনারেল ওসমানী যখন আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আসবেন তখন তার হেলিকপ্টারে গুলি করা হয়। এই গুলি কোথা থেকে এসেছে কেউ জানে না। আমরা ভাবছি এটা পাশের দেশেরই চক্রান্ত ছিল। তাই তিনি ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। বক্তারা জানান, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শেষের কয়েক দিন সহায়তা করে ভারত তাদের সেনাবাহিনীর জেনারেল মানেকশ কে ফিল্ডমার্শাল করেছে। কিন্তু বাংলাদেশর পক্ষ থেকে এটা পাওয়ার কথা জেনারেল এম এ জি ওসমানীর। তাকে রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন কারণে দেয়া হয়নি। তাই রাওয়ার মাধ্যমে এই আওয়াজ তুলতে হবে। একটি কমিটি করে নতুন সরকারকে এই প্রস্তাব দিতে হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল জামিল হাসান বীর প্রতীক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালক হিসেবে সখনই জেনারেল পদবি দেয়ার কথা। কিন্তু সেই যুদ্ধের সময়ও এম এ জি ওসমানীকে প্রমোশন দেয়া হয়নি। তিনি যুদ্ধের পুরোটা সময় কর্নেল হিসেবে যুদ্ধ পরিচালিত করেছেন। যুদ্ধ জয়ের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পর তাকে জেনারেল করা হয়েছে। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ আরো চারটা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। মিলিটারি কারিশমার জন্য তাকে ফিল্ডমার্শাল করা উচিত। এই বিষয়ে শুধু আলোচনা করে কাজ হবে না। রাওয়ার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট জায়গায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, কথা উঠেছে জেনারেল ওসমানীর মতো একজন ব্যক্তিকে আরো সম্মানিত করা উচিত। ফিল্ডমার্শাল র‌্যাংকে তাকে ভূষিত করা উচিত। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানে ইতোমধ্যেই দু’জন ফিল্ডমার্শাল দেয়া হয়েছে। এই দুইজন ফিল্ডমার্শালদের চেয়ে জেনারেল ওসমানীর কৃতিত্ব অনেক বেশি। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন। নতুন একটা দেশ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আমি আপনাদের দাবি- স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে মরণোত্তর ফিল্ডমার্শাল করার প্রস্তাবকে সমর্থন জানাই।

তিনি বলেন, আমার সাজেশন হলো- এই বিষয়ে রাওয়া থেকে একটা ডেলিগেশন টিম সেনাবাহিনী প্রধানের কাছে যেতে হবে। পাশাপাশি নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানের কাছে কনভেন্স করতে হবে যে- জেনারেল ওসমানীর মতো এত বড় একজন ব্যক্তিত্ব যিনি মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাকে যাতে বর্তমান সরকার ফিল্ডমার্শাল র‌্যাংক পদে অভিষিক্ত করে। পাশাপাশি আগামীকালকে যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমানের কাছে একটি লিখিতভাবে আবেদন করা উচিত। তিনি জানান, যদি আমি ক্যাবিনেটে থাকি বা যেখানেই থাকি, ইনশাআল্লাহ আমি এটা যাতে সঠিকভাবে মূল্যায়িত হয়, সেজন্য ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যা যা বলার প্রয়োজন ইনশাআল্লাহ বলব। জেনারেল ওসমানীকে এই সম্মান দেয়া উচিত। এটা পেলে তার কোনো গৌরব বাড়বে না বরং আমরা জাতি সম্মানিত হবো।

এ দিকে গতকাল আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল (অব:) এম এ জি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যথাযথ মর্যাদার সাথে পালিত হয়েছে। জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, সিলেট এরিয়া মেজর জেনারেল মো: আলীমুল আমীন যথাযথ সামরিক মর্যাদায় সিলেটে জেনারেল (অব:) এম এ জি ওসমানীর সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনারের মাধ্যমে সম্মান প্রদর্শন করে। পরিশেষে তার রূহের মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মুনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে সিলেট এরিয়ার সকল ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর অন্যান্য পদবির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।