বিমানের ভুয়া টিকিট দিয়ে ওমরাহর টাকা নিয়ে উধাও মুসলিম গ্রুপের মালিক
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের ভুয়া গ্রুপ টিকিট দিয়ে একই পরিবারের আট সদস্যের ওমরাহ পালনের জন্য জমা দেয়া পুরো টাকা নিয়েই উধাও হয়েছেন মুসলিম হজ গ্রুপের কর্ণধার মাওলানা গোলাম কিবরিয়া আল-মুসলিম ও তার অফিস স্টাফরা। এমন অভিযোগ করে মিরপুরের বাসিন্দা প্রতারিত মো: মঈন উদ্দিন রুবেল পল্টন থানায় অভিযোগ দিয়েছেন; কিন্তু ঘটনার দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পরও পুলিশ প্রতারক গোলাম কিবরিয়া ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করতে পারেনি।
টাঙ্গাইল নাগরপুরের বাসিন্দা মো: মঈন উদ্দিন রুবেল বর্তমানে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন মিরপুরের কাজীপাড়া এলাকায়। তিনি তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমি ও আমার পরিবারের মোট আটজন পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকার ৫৫ নম্বর পুরানা পল্টনের আজাদ সেন্টারের (লেভেল-১২/বি) মুসলিম হজ গ্রুপ নামক এজেন্সিতে যাই।
প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর বাসিন্দা মো: মোসলেম উদ্দিন ওরফে মাওলানা গোলাম কিবরিয়া আল-মুসলিমের সাথে আলোচনার পর ওমরাহ প্যাকেজের একটি নিজস্ব হাতে লেখা প্যাকেজ এজেন্সির প্যাডে লিখে দেন। তার দেয়া প্যাকেজ মোতাবেক আমি ও আমার পরিবারের মোট আটজনের জন্য প্যাকেজটি নিই। যার মূল্য বাবদ আমি গত ৮ সেপ্টেম্বর অগ্রিম আট লাখ টাকা (নগদ) প্রদান করি। এর বিপরীতে মুসলিম এয়ার ইন্টারন্যাশনালের নামে এজেন্সির মালিকের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত মানি রিসিট প্রদান করেন।
এরপর গত ৩ ডিসেম্বর একই এজেন্সির মানি রিসিট বাবদ আমার কাছ থেকে আরো তিন লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। ওমরাহ বাবদ আমি তাকে ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করি এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে সে আমাকে একটি বিমানের টিকিট ধরিয়ে দেয়। পরে আমি সাউদিয়া এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করি। তারা আমাকে জানান, আপনাকে যে টিকিট দিয়েছে সেটি ভুয়া টিকিট। এরপরই আমি তাদের সাথে যোগাযোগ করতে বহুবার তার মোবাইলে কল দিই; কিন্তু সেটি বন্ধ পাই।
এই অবস্থায় আমি সশরীরে তাদের অফিসে গিয়ে দেখি অফিসের গেটে তালা ঝুলানো। পাশের অন্য একটি অফিসে জানতে চাইলে তারা আমাকে জানান, মুসলিম গ্রুপের লোকেরা কয়েকদিন ধরে অফিসে আসে না। এরপর এজেন্সির মালিকের একাধিক নম্বরে ফোন করি; কিন্তু সেগুলো বন্ধ পাই।
মামলার অভিযোগে মো: মঈন উদ্দিন রুবেল আরো উল্লেখ করেন, মুসলিম হজ গ্রুপের মালিক মো: মোসলেম উদ্দিন যেন দেশের বাইরে যেতে না পারে সে ব্যাপারে সরেজমিন তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে টাকাগুলো উদ্ধার করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
জানা গেছে, ঘটনার পর পুলিশ ওই প্রতারকের অফিস পরিদর্শন করে; কিন্তু পুলিশ গিয়েও সেটি তালাবদ্ধ পায় বলে ভুক্তভোগী মঈন উদ্দিন জানিয়েছেন। এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর তিনি এজেন্সি মালিকের হুমকি পেয়ে থানায় জিডি করেছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও প্রতারণার অভিযোগে মোসলেম উদ্দিন পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার পরও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। পরে থানার টিঅ্যান্ডটি নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। সেখানেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।