পদত্যাগ করতে পারেন আইজিপি র্যাব ডিজি ও ডিএমপি কমিশনার
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপি, র্যাবের মহপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাদ আলী পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। পুলিশের চৌকস এই তিন কর্মকর্তা চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ ও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য চুক্তিভিত্তিক হিসেবে নিয়োগ দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল র্যাবের মহাপরিচালক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ায় র্যাবের সব কর্মকর্তাদের নিয়ে দরবারে ধন্যবাদ জানান। দরবারে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনে অনেক কষ্ট করে হলেও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই একটি নির্বাচন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। তিনি বলেন, চুক্তি শেষ হওয়ায় শিগগিরই চলে যেতে হবে। এ সময় সবাইকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
পুলিশ সদর দফতরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আইজিপি এখনো পদত্যাগ করেনি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, স্যার দুয়েক দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। অপর দিকে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাদ আলী পদত্যাগ করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডিএমপি কমিশনারের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ শেষ প্রায়। নির্বাচনের নিরাপত্তার একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। পুলিশ তা মোকাবেলা করেছে। একাধিক সূত্র জানায়, মন্ত্রী পরিষদের শপথের পর বা আগামীকাল তিনজনই একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
আইজিপি বাহারুল আলম পদত্যাগ করলে এই চেয়ারে কে বসবেন তা নিয়েও চলছে গুঞ্জন। তবে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ হেডকোয়াটার্সে বর্তমানে পাঁচজন অতিরিক্ত আইজিপি দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে প্রথম স্থানে আইজিপির পদমর্যাদায় আছেন অতিরিক্ত আইজিপি (অ্যাডমিন) এ কে এম আওলাদ হোসেন। চৌকস এই কর্মকর্তা সততা-নিষ্ঠা ও যোগ্য নিরপেক্ষ হিসেবে আইজিপির চেয়ারে বসতে পারেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে। অপর দিকে অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থায়ন) মো: আকরাম হোসেন রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম রয়েছে তৃতীয় স্থানে। এ ছাড়াও অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে রয়েছেন (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ রয়েছেন চতুর্থ স্থানে। পঞ্চম স্থানে আছেন অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) সরদার নূরুল আমিন।
অপর দিকে সম্প্রতি দেশের বাইরে চলে যাওয়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবের সিন্ডিকেটের হওয়ায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো: ছিবগাত উল্লাহ ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশের স্পেশাল বিভাগ (এসবি) প্রধান গোলাম রসুল এই দুইজনকে আইজিপি করার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ।
জানা গেছে আইজিপি বাহারুল আলমকে ২০২৪ সালে ২০ নভেম্বর থেকে আগামী ২০ নভেম্বর অর্থাৎ দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। চুক্তি অনুযায়ী তার মেয়াদ আছে আরো ৯ মাস। র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমানকে ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হলো। সে অনুযায়ী তার মেয়াদ আছে মাত্র ২৮ দিন।
অপর দিকে ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাদ আলীর চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ২১ নভেম্বর।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধিন নতুন সরকার গঠনের পর পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক রদবদল শুরু হবে। এর আগেই পুলিশের এই তিন কর্মকর্তা পদত্যাগের কথা শোনা যাচ্ছে।