জুলাই সনদ অবিকৃতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে : মিয়া গোলাম পরওয়ার
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকাকে ইসলামের অপরাজেয় দুর্গে পরিণত করতে ইসলামী আন্দোলনের সব স্তরের জনশক্তিকে ময়দানে আপসহীন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গতকাল রাজধানীর বারিধারাস্থ সিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিসে শূরার অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, আমির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা: ফখরুদ্দীন মানিক ও ইয়াছিন আরাফাত প্রমুখ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী আন্দোলন কোনো গতানুগতিক রাজনীতি নয় বরং এটি আর্ত-মানবতার কল্যাণে নিবেদিত কাফেলা। তাই ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীলদের প্রচলিত রাজনীতির গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে না দিয়ে ধৈর্য, সহনশীলতা, প্রজ্ঞা, দক্ষতা ও দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিজেদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি সৃষ্টির জন্য অধ্যবসায়ী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য কুরআন, হাদিস ও বেশি বেশি ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন করে নিজেদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পরিধি বাড়াতে হবে। সব সিদ্ধান্ত নিতে হবে পরামর্শভিত্তিক। দায়িত্ব পালন করতে হবে ইখলাস ও দৃঢ়তার সাথে। তাহলেই ইসলামী আন্দোলন আগামী দিনে অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পারিণত হবে। তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে সবাইকে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা শুরু করেছে। তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালালেও ক্ষমতায় যাওয়ার পর সবকিছু ভুলে যেতে বসেছে। শুরুতেই তারা গণভোটকে অবৈধ বললেও এখন তারা এর বৈধতা স্বীকার করে নিয়েছে। তাই সরকারের পক্ষে জুলাই সনদকে পাশ কাটানোর কোনো সুযোগ নেই। সরকারকে আত্মঘাতী অবস্থান থেকে সরে এসে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করে অবিকৃতভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াতের রাজনীতি দুনিয়া হাসিলের কোনো উদ্দেশ্য নেই বরং আর্ত-মানবতার ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তিই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। বস্তুত আমরা ভোগের নয় বরং ত্যাগ ও কল্যাণের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমরা এমন এক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রত্যয়ে যেখানে সব মানুষের অধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে। এ কাজের মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করে জান্নাতের মহাপুরস্কারে পুুরস্কৃত হতে চাই। তিনি সে উদ্দেশ্য সাধনে সবাইকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
মজলিসে শূরায় পুরুষ ও নারী সদস্যরা অংশ নেন।