গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান প্রেরণ

গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের অনড় অবস্থানে পাল্টা পদক্ষেপের বার্তা ইইউর

Printed Edition

এএফপি ও বিবিসি

গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে একের পর এক হুমকি ও বিতর্কিত মন্তব্য করে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এবার আর বাগযুদ্ধ নয় বরং ডেনমার্কের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে গ্রিনল্যান্ডের ঘাঁটিতে সামরিক প্লেন মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ডের (নোরাড) অধীনে থাকা একটি সামরিক উড়োজাহাজ পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সব কূটনৈতিক অনুমোদন নেয়া হয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ড সরকারকেও পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সাথে সমন্বয় করেই করা হচ্ছে।

নোরাড জানিয়েছে, শিগগিরই তাদের একটি সামরিক প্লেন গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে পৌঁছাবে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন বহু আগে থেকে পরিকল্পিত কার্যক্রমের অংশ এবং বিষয়টি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সাথে সমন্বয় করেই করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে নোরাড জানায়, ‘নোরাডের বিমান শিগগিরই গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে পৌঁছাবে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ও কানাডার ঘাঁটি থেকে পরিচালিত অন্যান্য বিমানের সাথে তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত নোরাড কার্যক্রমে অংশ নেবে। এটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ডেনমার্ক রাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতারই ধারাবাহিকতা।’ তবে যুদ্ধবিশারদদের মতে, ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেনের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটেই এই সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেয়ার পর স্বশাসিত এই ড্যানিশ ভূখণ্ডে আরেক দফায় সেনা মোতায়েন করেছে ডেনমার্ক। ড্যানিশ গণমাধ্যম ডিআর এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় ডেনমার্কের রয়্যাল আর্মির প্রধান পিটার বয়েসেনের নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সেনা পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডের কানগারলুসুয়াকে অবস্থান নিয়েছে।

উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ, এ অঞ্চলে রুশ ও চীনা বাহিনীর সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে এবং এ দ্বীপ রক্ষা করার সক্ষমতা ডেনমার্কের নেই। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবির বিরোধিতা করলে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি শতভাগ বাস্তবায়ন করবেন। ট্রাম্পের এমন হুঁশিয়ার বার্তায় গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একজোট হয়েছে ইউরোপের মিত্র দেশগুলো। খবর বিবিসির। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্কের অধীনে থাকা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের মালিক হতে পারে না। এ ছাড়া ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার গ্রিনল্যান্ডবাসী ও ডেনমার্কের হাতেই রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করার জন্য প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করেননি। বরং তিনি জানান, ব্রিটেনসহ ন্যাটোর সাতটি মিত্র দেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিতে শুল্ক আরোপ করা হবে। এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রিনল্যান্ড দখলে শক্তি ব্যবহার করবেন কি না- এমন প্রশ্নে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না। অন্য দিকে ডেনমার্ক সতর্ক করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ ন্যাটোর ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশ প্রতীকীভাবে অল্পসংখ্যক সেনা গ্রিনল্যান্ডে পাঠিয়েছে। এর পরই ট্রাম্প ওই আটটি ন্যাটো সদস্য দেশের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, ইউরোপকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেখাতে হবে যে শুল্ক আরোপের হুমকি কোনো সমাধানের রাস্তা নয়। স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, কিছু সীমারেখা আছে যা অতিক্রম করা যাবে না। হুমকি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের মালিক হওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি ঘোলা করার ইচ্ছে আমার নেই। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সাথে কাজ চালিয়ে যাবে ন্যাটো।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা এই বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে একটি জরুরি শীর্ষ বৈঠকে বসবেন। গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির জবাব কীভাবে দেয়া হবে, সেখানে তা নিয়ে আলোচনা হবে। ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া ক্যালাস বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর ইচ্ছে ইউরোপের নেই। তবে আমরা নিজেদের অবস্থান থেকেও সরে দাঁড়াব না। সার্বভৌমত্ব কেনা-বেচার বিষয় নয় জানতে তিনি আরো বলেন, বাণিজ্যিক হুমকি এই সমস্যার সমাধান না।