বিভিন্ন সংগঠনের বিবৃতি
মোশাররফ আহমদ ঠাকুরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমদ ঠাকুরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ : ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ ও সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম গতকাল এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, হবিগঞ্জের কনভার্টেড মুসলিম তথাকথিত সাংস্কৃতিক সংগঠক ও বিএনপি নেতা দাবি করা ‘মোশাররফ আহমদ ঠাকুর’ তার এক বক্তব্যে বলেন, “ইয়াহুদী নারীরা যখন বেশ্যাবৃত্তি করত অথবা অন্য কোনো নিষিদ্ধ কার্যক্রম করত, তখন নেকাব পরত। হিজাব হলো মুসলমানের ড্রেস বাট নেকাব মুসলমানের ড্রেসই না’। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইসলামের শরিয়া বিধান পর্দা তথা ‘নিকাব’ নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তার এই বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
তারা আরো বলেন, এটা শুধু মা-বোনদের অপমান নয়, ইসলামের অপমান। ইসলামের শাশ্বত বিধান হলো নারীদের জন্য নিকাব পরিধান করা ফরজ। নেকাব বা মুখ ঢেকে রাখার প্রথাটি কেবল ইসলামের সাথেই যুক্ত নয়। ইসলাম আগমনের বহু আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নারীদের পর্দা করার বা মাথা ও মুখ ঢাকার রীতি প্রচলিত ছিল। প্রাচীনকালে এটি আভিজাত্য এবং উচ্চ সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও দেখা হতো। নেকাব বর্তমান সময়ে মুসলিমদের একটি ধর্মীয় পোশাক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রাচীন অন্যান্য সংস্কৃতির মধ্যেও বিদ্যমান ছিল। বর্তমানে এটি শালীনতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
নেতৃদ্বয় বলেন, তথাকথিত বিএনপি নেতাকে বাংলাদেশের সব নিকাব পরিহিতা নারীর কাছে মাফ চাইতে হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের মা-বোনদের সাংঘাতিকভাবে অপমান করেছেন। দেশের নারীদের একটা বড় অংশের পোশাক নিয়ে এই অবমাননা ও অমর্যাদাকর মন্তব্য করে তিনি কোনোভাবেই বিএনপিকে হেল্প করছেন না; বরং ডুবাচ্ছেন।
ছাত্রশিবির : বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের দেয়া নিকাববিরোধী কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, “সম্প্রতি এক বক্তব্যে বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর প্রকাশ্যে দাবি করেছেন ‘নেকাব মুসলমানদের ড্রেসই না। ইহুদি নারীরা যখন বেশ্যাবৃত্তি করত তখন নেকাব পরত’ এই বক্তব্য চরম মিথ্যাচার, ইতিহাস বিকৃতি ও জঘন্য কুরুচির বহিঃপ্রকাশ। মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাককে এভাবে অপমান করা শুধু ইসলাম অবমাননাই নয়; বরং মুসলমানদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত। এবং তার এই বক্তব্য রাষ্ট্রীয় আইনে ফৌজদারি অপরাধ। আমরা তার এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “হিজাব ও নিকাব কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক পর্দা ব্যবস্থার অংশ এবং যুগ যুগ ধরে মুসলিম সমাজে চর্চিত একটি সম্মানজনক ধর্মীয় অনুশীলন। নিকাব মুসলিম নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে ইসলামী বিধিবিধানকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচয় হতে পারে না। দুঃখজনকভাবে, বিএনপির একাধিক নেতার বক্তব্যে এ ধরনের অসংযম ও ধর্মবিদ্বেষী মনোভাবের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “বিএনপি ইসলামী রীতিনীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধে বিশ্বাস করে কি না তা তাদের নিজস্ব দলীয় সিদ্ধান্ত। কিন্তু দেশের অধিকাংশ মানুষের তথা মুসলমানদের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও বিধান নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার কোনো অধিকার কারো নেই। অন্যদের ওপর ‘ধর্ম ব্যবসার’ অভিযোগ চাপিয়ে দিয়ে নিজেরাই ইসলামের বিধানকে অবমাননা করা দ্বিচারিতা ও ইসলামোফোবিক মানসিকতার স্পষ্ট প্রকাশ।”
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “আমরা ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, আলেম সমাজ ও সচেতন মুসলিম জনগণকে এ বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই। একই সাথে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।