হামলা-সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অন্তত ১৭
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা অব্যাহত
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সঙ্ঘাত ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও ঝিনাইদহের শৈলকুপায় হামলা, লুটপাট ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই জেলায় পৃথক ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া সংবাদদাতা জানিয়েছেন, উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল আলিমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত রোববার দুপুরে গজাইল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৫০-৬০টি মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকায় মহড়া দিয়ে আব্দুল আলিমের বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি নারী সদস্যদের মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল আলিমের স্ত্রী মোছা: জেরিন খাতুন, মেয়ে মারুফা খাতুন, মর্জিনা খাতুন, জামেনা খাতুন ও আকলিমা খাতুন।
তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এজাহারে দাবি করা হয়েছে, হামলাকারীরা নগদ পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার (আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা) এবং মসজিদ ও কবরস্থানের তহবিলের অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার সাথে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা, সদস্যসচিব নিক্সন কুমার আমিন, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস কাওসার ও কাওসার আহমেদ রনির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নিক্সন কুমার আমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা নিজেদের নেতাকর্মীদের খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি সাকিউল আজম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা ও পোস্টাল ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, পোস্টাল ভোটসহ চূড়ান্ত ফলাফলে জামায়াত প্রার্থী ৫৯৪ ভোটে বিজয়ী হন। ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে।
অন্য দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সংবাদদাতার পাঠানো তথ্য অনুসারে, উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের বারইহুদা গ্রামে নির্বাচনের পর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামিরুল ইসলাম ও সাবেক চেয়ারম্যান রাকিবুল হাসান খান দিপুর সমর্থকদের মধ্যে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক পক্ষের সমর্থক নাসির মেম্বারকে আটক করতে চাইলে বিক্ষুব্ধ জনতা বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ ও প্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষে হাটফাজিলপুর ক্যাম্পের পুলিশ সদস্য সোহেল রানা, বারইহুদা গ্রামের কবির, আকলিমা খাতুনসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হন।
আহতদের শৈলকুপা ও ঝিনাইদহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
জামিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় এবং প্রকৃত হামলাকারীদের আটক না করে পুলিশ উল্টো তার পক্ষের লোকজনকে ধরতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অন্য দিকে রাকিবুল হাসান খান দিপু সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শৈলকুপা থানার ওসি (তদন্ত) শাকিল আহমেদ জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচন-পরবর্তী এসব ঘটনায় দুই জেলায়ই রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন বলছে, অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।