হাদি হত্যার ৩ সপ্তাহেও বিচার নিশ্চিত না হওয়া লজ্জার : হাসনাত আব্দুল্লাহ

Printed Edition
3rd-2
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ওসমান হাদি স্মরণে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হাসনাত আব্দুল্লাহ : নয়া দিগন্ত

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ভারতের গুণ্ডামির বিরুদ্ধে যারা আপসহীন ছিলেন, শহীদ ওসমান হাদি তাদের অন্যতম। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, হাদি ভাই শহীদ হওয়ার তিন সপ্তাহ পার হলেও আমরা এখনো তার হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারিনি। এটি আমাদের জাতির জন্য লজ্জার। আমরা হাদি হত্যার বিচার চাই।

গতকাল বুধবার দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের জয়পুর চাঁন মিয়া মার্কেটের সামনে শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে আমরা দেখেছি, চোখের ইশারায়ও যদি বিএনপি-জামায়াত কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করত, সেখানে সাথে সাথে গোয়েন্দা সংস্থা উপস্থিত হতো। অথচ ছয় মাস আগে ঘোষণা দিয়ে জুমার দিনে প্রকাশ্যে আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হলো, হত্যার পর খুনিরা সীমান্তের ওপারে চলে গেল কিন্তু আমাদের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারল না। তিনি বলেন, অতীতে ভারত ঠিক করে দিয়েছে আমাদের দেশ কে চালাবে। এদেশে এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে, যেমন ব্যাংক এজেন্ট দেয়া হয়। এ দেশে মোদির এজেন্ট ছিল হাসিনা। এজেন্ট মালিকের কথামতো দেশ চালিয়েছে, আর যখন পারেনি, তখন সেই এজেন্টকে মালিক সরিয়ে নিয়েছে। ভারতের গুণ্ডামি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ইনসাফের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপীদের প্রার্থী করার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আমরা নতুন কিছু প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ঋণখেলাপীদের মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে।

যারা ব্যাংকের টাকা ফেরৎ দেয় না, জনগণের আমানতের টাকা ফেরৎ দেয় না, তারা সংসদে গিয়ে জনগণকে কী বার্তা দিতে চান, তা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিজেই ঋণ করে চলে, দায় শোধ করে না, সে ব্যক্তি জনগণের সেবা করতে এলে কী ধরনের সেবা দেবে, তা আমাদের পরিষ্কার হয়ে গেছে। যারা জনগণের ট্যাক্সের টাকা ও ঋণের টাকা আত্মসাৎ করে বিলাসিতা করে, তাদের লজ্জা হওয়া উচিত।

এনসিপির এই নেতা বলেন, এসব ঋণখেলাপীরা সংসদে গিয়ে যেন জনগণের টাকা ফেরৎ দিতে না হয়, সেই ব্যবস্থাই করবে। তাই ব্যালটের মাধ্যমে ঋণখেলাপীদের ‘না’ বলতে হবে।