সর্দিতে বন্ধ নাক খুলতে কী করবেন

Printed Edition

গরমের এই সময়েও ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি ও ঠাণ্ডা লাগার সমস্যা লেগেই রয়েছে। শীতের সময়কার সমস্যা এক রকম আর গরমের সময়ে সমস্যা আরেক রকম। এখন প্যাচপ্যাচে ঘাম গায়ে বসে গিয়ে ঠাণ্ডা লেগে যায়। আর সর্দির চেয়েও যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়, তা হলো নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। রাত্রে শুতে গেলেই মনে হয় দম আটকে আসছে, যার জেরে ঘুম উধাও। চিকিৎসকদের মতে, ঠাণ্ডা লাগলে নাসিকাপথের রক্তনালিগুলোতে অতিরিক্ত তরল জমে ফুলে ওঠে, যার ফলে হাওয়া চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।

বাজারে চালু ইনহেলার বা ড্রপ সাময়িক আরাম দিলেও অতিরিক্ত ব্যবহারে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই কোনো ওষুধ ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কায়দায় কিভাবে বন্ধ নাক খুলে ফেলা যায়, তার কিছু টিপস।

১. বন্ধ নাক খোলার সবচেয়ে প্রাচীন ও বিজ্ঞানসম্মত উপায় হলো স্টিম নেয়া। একটি বড় পাত্রে পানি ফুটিয়ে নিন। এবার মাথার ওপর একটি বড় তোয়ালে এমনভাবে ঢেকে নিন যাতে ভেতরের বাষ্প বাইরে বেরোতে না পারে। পাত্রটির কাছাকাছি মুখ নিয়ে সাবধানে গরম পানির ভাপ নাক ও মুখ দিয়ে টানুন। পানির মধ্যে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল বা সামান্য পুদিনা পাতা মিশিয়ে নিলে সাইনাসের ব্লকেজ এক মিনিটেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

২. একটি পরিষ্কার সুতির কাপড় বা ছোট তোয়ালে হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে ভালো করে চিপে নিন। এবার এই ঈষদুষ্ণ তোয়ালেটি আপনার নাক, কপাল এবং চোখের ওপর দিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। এই গরম সেঁক নাসিকাপথের ভেতরের প্রদাহ বা ফোলাভাব কমিয়ে দেয় এবং জমা সর্দি তরল করে বের করে দিতে সাহায্য করে।

৩. নাক বন্ধের সমস্যায় গোলমরিচ দারুণ কাজ করে। এক চামচ খাঁটি মধুর সাথে এক চিমটে গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে দিনে দু-তিনবার খান। গোলমরিচের ঝাঁঝালো উপাদান নাসিকাপথের ব্লকেজ কাটাতে সাহায্য করে এবং মধু গলার খুসখুসে ভাব দূর করে।

৪. কড়াইতে ২-৩ কোয়া রসুন এবং এক চামচ জোয়ান বা জৈন শুকনো খোলায় হালকা ভেজে নিন। এবার একটি পাতলা সুতির কাপড়ে ওগুলো বেঁধে একটি ছোট পোটলা তৈরি করুন। এই পোটলার গন্ধ কিছুক্ষণ পর পর শুকলে বন্ধ নাক নিমেষেই খুলে যায়। রসুনের অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান জীবাণুনাশ করতেও সাহায্য করে। ছোটদের ক্ষেত্রে এটা দারুণ কাজ দেয়।

৫. নাক বন্ধ থাকলে শরীর যাতে শুকিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। তাই সারাদিন হালকা গরম পানি, আদা-তুলসির ভেষজ চা বা গরম স্যুপ খান। তরল খাবার জমা সর্দিকে পাতলা করে দেয়। এ ছাড়া রাতে ঘুমানোর সময় মাথার নিচে একটির বদলে দু’টি বালিশ ব্যবহার করুন। মাথা শরীরের চেয়ে উঁচুতে থাকলে নাক বন্ধ হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়। তবে এই সমস্যার সাথে যদি তীব্র জ্বর, মাথা যন্ত্রণা বা শ্বাসকষ্ট থাকে এবং তা ৩-৪ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। ইন্টারনেট।