রাজধানীতে বৃহস্পতিবার থেকে পাহাড়ি উৎসব

Printed Edition

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

রাজধানীতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনের পাহাড়ি উৎসব। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব ‘বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু, চাংক্রান ও বিষু’ উপলক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার এর উদ্বোধন করা হবে। রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরের শাক্যমুনি বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই মেলা চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

‘ঢাকাস্থ পার্বত্য উদ্যোক্তা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডে’র উদ্যোগে এবং ‘সিএইচটি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সহযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেয়ান। অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এবারের মেলায় ৩০ থেকে ৩৫টি স্টলে পার্বত্য চট্টগ্রামের টাটকা কৃষিপণ্য, জুম চাষের সবজি, ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প এবং রসনাবিলাসী পাহাড়ি খাবারের সমাহার থাকবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে বিভিন্ন পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী গান ও নাচের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সমাপনী দিনে ১১ এপ্রিল বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে লটারি ড্র। মেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পরদিন, অর্থাৎ ১২ এপ্রিল রোববার বসবে ‘স্পেশাল বিজু বাজার’। পাহাড়িদের প্রধান উৎসবের দিনগুলোর কেনাকাটার কথা মাথায় রেখে টাটকা সবজি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও শুকনা খাবারের এক বিশেষ বাজার বসবে।

এবারের মেলায় ইতোমধ্যে স্টল বরাদ্দ নিয়েছেন পাহাড়ি নারী উদ্যোক্তা জিলিয়ান তালুকদার। স্টলের নাম ‘কোরিয়ান প্ল্যাম বাংলাদেশ’। মেলা বিষয়ে তিনি বলেন, আমার স্টলে পাহাড়ের ঐতিহ্যের সাথে কোরিয়ার বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীও পাওয়া যাবে। মেলার আয়োজকদের অন্যতম সদস্য হেবাং রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী বিপলী চাকমা বলেন, গত বছর আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। সেই উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে। মেলায় হেবাংয়ের নানান মুখরোচক রান্না থাকবে।

আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সুবিমল চাকমা বলেন, পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, পোশাক ও খাদ্যের প্রতি নগরবাসীর ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। মূলত পাহাড়ের উৎসবের আমেজ রাজধানীর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। এখানে পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সবাই পাহাড়ের আতিথেয়তা ও সম্প্রীতির স্বাদ নিতে পারবেন।