ইসিতে বৈঠক শেষে ১১ দল
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দায় ইসিকেই নিতে হবে
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
- ৩২টি আসনে ভোট গণনায় কারচুপি
- আজ ঢাকায় ১১ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ
মৌলিক জায়গায় আপনি যতই সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ করেন না কেন যদি ফেয়ারলি রেজাল্ট ঘোষণা না হয়, এখানে যদি ইঞ্জিনিয়ারিং হয়, আপনি যদি এটা চেক দিতে না পারেন, পদক্ষেপ না নিতে পারেন, ওই একটা দায়সারা গোছের বক্তব্য দিলে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, এখানে ইলেকশনের দায়দায়িত্ব ইলেকশন কমিশনকেও নিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ৩২টি আসনে ভোট পুনঃগণনা চেয়ে ইসিকে চিঠি দিয়েছি। আর অনিয়মের দায়ে আজ ঢাকায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিক্ষোভ কর্মসূচি।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে গতকাল কমিশনের সাথে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের কাছে এই মন্তব করেন ড. আযাদ। সিইসি না থাকায় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। সভায় তিন কমিশনার ও ইসি সচিবও ছিলেন। বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন- জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের নবনির্বাচিত এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, লেবার পার্টির সভাপতি ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধি।
নির্বাচনে কালো টাকা, সন্ত্রাস ও পক্ষপাত প্রসঙ্গ : ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা লক্ষ করেছি ১২ ফেব্রুয়ারির ইলেকশনের তো কয়েকটি ধাপ আছে। একটা হচ্ছে ভোট গ্রহণ। দ্বিতীয় হলো ভোট গণনা। তৃতীয় হচ্ছে ফলাফল প্রকাশ। এই তিন ধাপের মধ্যে ভোট গ্রহণের বেলায় আমরা অতীতের তুলনায় কিছুটা গুণগত পরিবর্তন দেখেছি। তিনি বলেন, খুনাখুনি, বড় ধরনের সহিংসতা তেমন দৃশ্যমান ছিল না। তবে ভোট গ্রহণকালীন সময়ে ভোটকেন্দ্রগুলো ভিজিট করতে গিয়ে আমরা যেটা দেখেছি সেখানে নানা ধরনের অসুস্থ পরিবেশ বিরাজমান ছিল। অর্থাৎ ভোট গ্রহণ সূচনা সুন্দর হলেও সমাপ্তি সুন্দর হয়নি। এখানে জালভোট হয়েছে প্রচুর। তিনি বলেন, কালো টাকার ছড়াছড়ি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও হুমকি, ধমকি, সন্ত্রাস, মারামারি অথবা হামলার ঘটনা ঘটেছে। বড় ঘটনা না ঘটলেও সুষ্ঠু নির্বাচনে এগুলো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিভিন্ন উপাদান তৈরি করে। তিনি বলেন, সেকেন্ড বিষয় হচ্ছে যারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন মাঠপর্যায়ে সেখানে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে, প্রার্থী প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে; কিন্তু সেগুলোতে কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিতে আমরা দেখিনি।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়নি : ড. আযাদ বলেন, আজকে কমিশনও একই কথা বলেছে যে, এখনো চার শতাধিক হারানো পিস্তল উদ্ধার হয়নি। কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। আর অবৈধ অস্ত্র তো আছেই। সবমিলে এই জায়গাটাও নির্বাচনের মধ্যে প্রভাব তৈরির ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, আরেকটা বিষয় হচ্ছে কালো টাকা অস্ত্র হুমকি-ধমকির পাশাপাশি ইলেকশন ম্যানিপুলেশন করার কিছু কার্যক্রম আমরা লক্ষ করেছি। যেমন কোনো কোনো কেন্দ্রে সেখানে কর্তব্যরত অফিসাররাও নিজেরা ব্যালটে সিল মারার কাজে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। দলীয় কর্মীরাও সিল মেরেছেন বলে অভিযোগ আছে। আবার ভোট গ্রহণকালে এখানে বাধা দেয়া হয়েছে। ভয়ভীতি ছড়ানো হয়েছে। ভোট কাস্টিং কম হয়েছে। ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
এজেন্ট বের করে দেয়া হয়েছে : তিনি বলেন, সবমিলিয়ে ইলেকশনে ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়ার মধ্যে এই ত্রুটিগুলো লক্ষ করা গেছে। সেকেন্ড হচ্ছে ভোট গণনা। গণনার ক্ষেত্রে কত কত এজেন্টকে ফোর্স করে বের করা হয়েছে। সুষ্ঠু গণনার যে সুস্থ পরিবেশ দরকার সেটি কোথাও কোথাও ব্যাহত হয়েছে। এটা ছিল না। ফলে ইলেকশনে ভোট গণনার মধ্যে যদি ত্রুটি থেকে যায় ফলাফলে তার প্রভাব পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। রেজাল্টশিটেও দেখা গেছে ঘষামাজা কাটাছিঁড়া ওভাররাইটিং। জামায়াত নেতা বলেন, অনেক জায়গায় যে অরিজিনাল এজেন্ট ছিলেন প্রার্থীর, তার স্বাক্ষর নেয়া হয়নি। ড. আযাদ বলেন, ৩২টি আসনের বাইরেও আমাদের কাছে এভিডেন্স সাফিশিয়েন্ট। আমাদের হাতে আসতেছে সে জন্য ব্যবধানের বাইরেও বড় ব্যবধান হারানো যদি এখানে এভিডেন্স পাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে আমরা আইনের আশ্রয় নেব।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সংস্কারে কিছু বিষয় মৌলিকভাবে এসেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে এগুলোর আমরা সুফল পাবো। যেহেতু বাস্তবায়ন হয়নি সুফল পাইনি। সেকেন্ড হচ্ছে ইলেকশন কমিশন তাদের বক্তব্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছে পরিশ্রম করেছে এটা আমরা শুনেছি, এটা আমরা বিশ্বাসও করতে চাই। আর গুণগত চেঞ্জ যেটা আমি বলেছি শুরুতে সেটি একটা এচিভমেন্ট বলতে চাই।
আজ প্রতিবাদ কর্মসূচি : ড. আযাদ বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী এই সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা এটার প্রতিবাদ করতে চাই। সহিংসতা না থামলে তারা রাজপথে আরো কর্মসূচি দেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন। নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা এবং দেশজুড়ে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। প্রতিবাদে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।