কর্ণফুলীতে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে নিহত ৪

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পৃথক দুর্ঘটনায় নড়াইলে এক সাংবাদিক ও চুয়াডাঙ্গায় এক বৃদ্ধ প্রাণ হারিয়েছেন।

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে কাভার্ডভ্যান ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো সাতজন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

শনিবার রাত ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন নিয়াজ মোর্শেদ (২২), তার ছোট বোন মিমতাহ (১৭)। তাদের মামা মো: ফেরদৌস আলম (৫৫) ও মাইক্রোবাসের চালক মো: মুন্না। তারা সবাই কক্সবাজারের ঈদগাহ এলাকার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহ আমানত সেতু পার হয়ে একটি কাভার্ডভ্যান দ্রুতগতিতে কলেজবাজার এলাকায় ইউটার্ন নেয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসের সাথে সংঘর্ষ হয়। মাইক্রোবাসটি উখিয়া থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসছিল। এতে চারজন নিহত হন।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। উদ্বারকারী পুলিশ সদস্য কর্ণফুলী থানার পুলিশ প্রদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। আহতরা চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।’

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু ও সাতজন আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ‘দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। তবে কাভার্ডভ্যানটির চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন।’

লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা জানান, নড়াইল-ঢাকা মহাসড়কে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের সাথে ধাক্কায় নড়াইলের সাংবাদিক কাজী আশরাফ (৪৫) নিহত হয়েছেন। এ সময় তার সাথে থাকা মাহমুদুল হাসান অনিক আহত হন।

রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মনসুরাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কাজী আশরাফ নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার গোপিনাথপুর গ্রামের কাজী শামসুর রহমানের ছেলে। তিনি এশিয়ান টেলিভিশনের নড়াইল প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের জামাতা সনি চৌধুরী জানান, রোববার সকালে ব্যক্তিগত কাজে কাজী আশরাফ ও মাহমুদুল হাসান অনিক মোটরসাইকেলে করে লোহাগড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে ভাঙ্গার মনসুরাবাদ এলাকায় মোটরসাইকেলটি সড়কে স্লিপ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায়। এ সময় দোলা পরিবহনের একটি বাসের সাথে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগে। এতে কাজী আশরাফ গুরুতর আহত হন। অনিকও আহত হন।

গুরুতর আহত সাংবাদিক কাজী আশরাফকে স্থানীয় ভাঙ্গা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়, ঢাকা মেডিক্যালের চিকিৎসকগণ পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়ায় দ্রুতগতির পিকআপের ধাক্কায় হাওয়া বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

রোববার সকাল ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের আলুকদিয়া বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হাওয়া বেগম চুয়াডাঙ্গার দর্শনা মদনা এলাকার আব্দুল মজিদের স্ত্রী। তিনি আলুকদিয়ার আকন্দবাড়িয়ায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে হাওয়া বেগম ভ্যান থেকে নেমে আলুকদিয়া বাজারে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগতির পিকআপ তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে পিকআপটি আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিকআপটি জব্দ করে এবং চালক সুহান আলীকে (২২) আটক করে। আটক চালক ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আগমুন্দিয়া এলাকার লোকমান মোল্লার ছেলে।

তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরার তালায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় আব্দুল মজিদ গাজী (৬৫) নামে এক সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। রোববার সকাল সোয়া ৯টার দিকে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা নতুন থানা (আজিজ কমপ্লেক্স) সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল মজিদ গাজী সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিনেরপোতা গ্রামের মৃত আব্দুল গাজীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে আব্দুল মজিদ গাজী সাইকেল চালিয়ে পাটকেলঘাটা থেকে বিনেরপোতা গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি আজিজ কমপ্লেক্সের সামনে পৌঁছালে সাতক্ষীরাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম দুর্ঘটনায় আব্দুল মজিদ জানান, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাস ও চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি খুলনার খর্নিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।