আ’লীগ সরকার বিদ্যুৎ সেক্টরে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছে

আইপিডির সেমিনারে বক্তারা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সেক্টরে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছে। লাখ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জের নামে রাষ্ট্রের অর্থ খরচ করা হয়েছে কিন্তু সৌরশক্তির জন্য (সোলার এনার্জি) কয়েক কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে পারেনি সরকার। সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে গ্যাস-তেল পুড়িয়ে উৎপাদিত ব্যয়বহুল বিদ্যুতের ওপর চাপ কমে যেতে পারত। এই সৌরশক্তির উন্নয়নে ব্যবস্থা খুবই কম নেয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জ্বালানি সঙ্কট ও পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নগরায়ন ও উন্নয়ন ভাবনা শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেন, নগর এলাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থার ঘাটতি ও ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর পরিবহনব্যবস্থা, আবাসন পরিকল্পনায় প্রাকৃতিক ব্যবস্থা এবং সবুজ-খাল-জলাশয় ধ্বংস, বিল্ডিং ডিজাইন ও স্থাপত্যে আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করে দিয়ে এসিনির্ভর ও কাঁচঘেরা ভবন নির্মাণ আমাদের জ্বালানি চাহিদা বহুলাংশে বাডিয়ে দিয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে গ্রাম-শহরের বিদ্যুৎপ্রাপ্তির যেমন বৈষম্য দেখা যাচ্ছে, তেমনি শহরের মধ্যেও বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বৈষম্য আছে। শহরের প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের লোকেরা দুর্ভোগে পড়ছেন আরো বেশি। বিদ্যমান জ্বালানি বণ্টনের ন্যায্যতা ও ভারসাম্য নিশ্চিত না করতে পারলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হতে পারে।

বক্তারা আরো বলেন, আমাদের দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি অনুমোদন ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি গ্রিন বিল্ডিং কোড প্রণয়ন করতে হবে। ভবন, অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের এনার্জি ডিমান্ড ও ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে। ভবনের উচ্চতা ও ঘনত্বের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে অপ্রয়োজনীয় উচ্চ ভবনের পরিবর্তে মাঝারি উচ্চতার ঘনবসতিপূর্ণ উন্নয়ন উৎসাহিত করতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সব ধরনের ট্যাক্স বাতিল করতে হবে। জ্বালানি পরিকল্পনার সাথে নগর পরিকল্পনা ও ইমারত নির্মাণ কোড ও বিধিমালার সমন্বয় করতে হবে। দেশের কৃষি, জরুরি খাদ্য পরিবহন ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, ফার্মাসিউটিক্যালস, সেচ ব্যবস্থাসহ জ্বালানি অগ্রাধিকার তৈরি করা প্রয়োজন। টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হলে নগর, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ পরিকল্পনার সাথে জ্বালানি বিষয়কে সমন্বিত করতে হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় এনার্জি ডিমান্ড ম্যাপিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকায় জ্বালানির চাহিদা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি। উন্নয়ন বাজেটের মতো বিদ্যুৎ বরাদ্দেও বৈষম্য রয়েছে, ফলে দেশের উন্নয়নকে এককেন্দ্রিক করে তুলছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে তথ্যনির্ভর পরিকল্পনা ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।

আইপিডি সংলাপে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ড. আরিফুল ইসলাম বলেন, গ্রামে জ্বালানি ঘাটতির কারণে শহরমুখী প্রবণতা বাড়ছে, যা বিকেন্দ্রীকরণ ও টেকসই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি উন্নত গণপরিবহন, গ্রিন বিল্ডিং, ট্রানজিট-অরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট এবং জ্বালানি দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশের স্থানিক পরিকল্পনা বিল অনুমোদন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দেশের জ্বালানি চাহিদা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ট্রাফিক অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ফোরামের সভাপতি সাজেদুল হক বলেন, আমাদের নগর উন্নয়নে এলোমেলো ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তনির্ভর পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে।

তিনি গণপরিবহনভিত্তিক যাতায়াতব্যবস্থা, সমন্বিত বাস রুট পরিচালনা, ছায়াযুক্ত ফুটপাথ ও পৃথক সাইকেল লেন নির্মাণের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি সামাজিক আচরণে পরিবর্তন, রিকশাকে আধুনিক ব্যবস্থার সাথে সমন্বয় এবং বিদ্যুৎচালিত ও হাইব্রিড যানবাহনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে টেকসই নগর তৈরি করার আহ্বান জানান।