সংশোধিত বাজেট ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ল ২৪ হাজার কোটি

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সংশোধন করেছে। সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা, যা মূল বাজেটের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার তুলনায় দুই হাজার কোটি টাকা কম। বাজেট সংশোধনের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও ২৪ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই সংশোধিত বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

শফিকুল আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আহরণের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪.১ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ২৬.৪ শতাংশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রেস সচিব জানিয়েছেন- এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে আহরিত হবে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা, কর বহির্ভূত রাজস্ব ৬৫ হাজার কোটি টাকা, ন্যাশনাল রেভিনিউ বোর্ড বহির্ভূত সূত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা। মোট সরকারি ব্যয় মূল বাজেটের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা থেকে হ্রাস পেয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ২ লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৩ শতাংশ। মূল বাজেটে এডিপি ছিল ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৭ শতাংশ)। অর্থাৎ এডিপিতে মোট ৩০ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করা হয়েছে। সংশোধিত বাজেটে এডিপি অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রায় আহরণ হবে ৭২ হাজার কোটি টাকা, স্থানীয় মুদ্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা।

পরিচালন ব্যয় ও অন্যান্য সরকারি ব্যয় ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। মোট সংশোধিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৩ শতাংশ)। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহ হবে ৬৩ হাজার কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৩৭ কোটি টাকা।

শফিকুল আলম বলেন, মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমছে। শীতকালের সবজি মূল্যের কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় ৭ শতাংশে এসেছে। আশা করা হচ্ছে চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নেমে আসবে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার হবে ৫ শতাংশ।

তিনি আরো জানান, প্রধান উপদেষ্টা বাজেট প্রণয়নে যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা হলো : দেশের নিজস্ব অর্থায়ন বৃদ্ধি করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় বৈদেশিক ঋণ এড়াতে হবে। শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে হবে। আগের বছরে শিক্ষার পরিমাণ বাড়লেও মান হ্রাস পেয়েছে, তাই কোয়ালিটি এডুকেশনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। পল্লী উন্নয়ন ও কৃষক সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে। চলতি বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদনে রেকর্ড হয়েছে, তাই বাজেটের সুবিধা সঠিকভাবে পৌঁছানো জরুরি। তরুণদের প্রতি ফোকাস রাখতে হবে। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। আর নারী ক্ষমতায়ন এবং নারীদের ওপর বাজেটের গুরুত্ব বাড়ানো হবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সাথে সরাসরি যুক্ত।

এই সংশোধিত বাজেট অর্থনীতি, শিক্ষা, কৃষি, যুব ও নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের কার্যক্রমকে আরো কার্যকরভাবে চালানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।