সাফের সেমি ও ভারত জয় কাবরেরার চোখে বড়
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
মোটামুটি সিঙ্গাপুরের কাছে হারের পরপরই নিশ্চিত হয়ে যায় হাভিয়ার কাবরেরার বাংলাদেশ পর্বের সমাপ্তি। বাকি ছিল চুক্তির আরো এক মাস পেরুনোটা। ৩০ এপ্রিলে বাংলাদেশের সাথে চুক্তি শেষ হয় এই স্প্যানিশ কোচের। ২০২২ সালের মার্চ থেকে তিনি লাল-সবুজদের দায়িত্ব নেন। তার মতো চার বছর আর কোনো বিদেশী কোচ বাংলাদেশের দায়িত্বে থাকেননি। তবে এই লম্বা সময়ে তেমন কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেননি তিনি। ২০২৩ সালে সাফের সেমিফাইনালে ওঠা এবং এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে ভারতের বিপক্ষে জয়। অবশ্য এই দুই অর্জনকেই বড় করে দেখছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে দেয়া বিদায়ী বার্তায় কাবরেরা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে আমার যাত্রা শেষ হতে চলেছে। চার বছর চার মাস। যা বাংলাদেশ জাতীয় দলের ইতিহাসে কোনো প্রধান কোচের দীর্ঘতম মেয়াদ। আমি এমন কিছু অবিস্মরণীয় স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি, যা প্রতিটি সেকেন্ডের জন্য সার্থক ছিল।’
তার দাবি- দলের ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মানসিকতা সৃষ্টি করতে পেরেছি। জানান, ‘মাঠ ও মাঠের বাইরে আমরা অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছি। কয়েক শ’ দর্শকের সামনে খেলা থেকে শুরু করে কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে অবিস্মরণীয় রাতগুলো কাটানো পর্যন্ত আমরা এমন কিছু মুহূর্ত সৃষ্টি করেছি, যা বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সর্বদা অংশ হয়ে থাকবে। একসাথে মিলে আমরা একটি শক্তিশালী সত্তার জন্ম দিয়েছি এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মানসিকতা সৃষ্টি করেছি, যা আমাদের মহাদেশের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে লড়াই করার সামর্থ্য জুগিয়েছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাইলফলক অর্জন করেছি। তা ১৪ বছর পর সাফের সেমিফাইনালে পৌঁছানো, ২২ বছরের মধ্যে প্রথমবার ভারতকে হারানো এবং ২০১৬ সালের পর ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো।’
তিনি আরো লিখেছেন, ‘পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা যে পথ তৈরি করেছি, তা নিয়ে আমি বিশেষভাবে গর্বিত। এই সময়ের মধ্যে ২১ জন অনূর্ধ্ব-২৩ খেলোয়াড়ের অভিষেক হয়েছে, যা এশিয়ার অন্যতম কনিষ্ঠ জাতীয় দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। প্রত্যেক খেলোয়াড়, স্টাফ সদস্য, সমর্থক এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সকলকে জানাই ধন্যবাদ। আমি গভীর কৃতজ্ঞতা ও গর্ব নিয়ে বিদায় নিচ্ছি এবং আমি বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশের ফুটবল সঠিক দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং এর সেরা মুহূর্তগুলো আসা এখনো বাকি।’