বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ পেছানোয় জাতিসঙ্ঘ সহযোগিতা করবে
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ পেছানো এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতিসঙ্ঘ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। গতকাল রোববার আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে বৈঠকে এ কথা জানান জাতিসঙ্ঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং জাতিসঙ্ঘের ইউএন-ওএইচআরএলএলএসের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা।
বৈঠকে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ সময়সীমা পেছানো ও পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির প্রশংসা করেন রাবাব ফাতিমা।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ পরিকল্পিতভাবে ও ধাপে ধাপে উত্তরণের মাধ্যমে এলডিসি উত্তরণ সম্পন্ন করতে চায়, যেন দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং শিল্পখাত কোনো ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন না হয়। এক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগীদের ধারাবাহিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং করের আওতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং চলমান সঙ্কট থেকে দেশকে বের করে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
গতকাল পরিকল্পনা কমিশনে এনইসি সম্মেলনকক্ষে ‘ন্যাশনাল মাল্টিস্টেকহোল্ডার কনসালটেশন অন বাংলাদেশ গ্র্যাজুয়েশন রেডিনেস অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এ অবস্থায় দেশের অর্থনীতিকে সুশৃঙ্খল ও স্থিতিশীল করতে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের কিছু বড় প্রকল্প যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছাড়া গ্রহণ করায় দেশের ওপর ঋণের চাপ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে, যা অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘ইতোমধ্যে যে ঋণ নেয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা এবং ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প গ্রহণে আরো সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে বাস্তবসম্মত ও ফলপ্রসূ প্রকল্প নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
কর ব্যবস্থার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত সন্তোষজনক নয় এবং তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তবে করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো করের আওতার বাইরে রয়েছে। তাই করের হার বাড়ানো নয়, বরং করের আওতা বিস্তৃত করে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করতে হবে।’ বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং একই সাথে উন্নয়ন কার্যক্রমকে টেকসই ধারায় এগিয়ে নিতে হবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতিসঙ্ঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং জাতিসঙ্ঘের ইউএন-ওএইচআরএলএলএসের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।