আরো তীব্র শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা হিটার-গিজারসহ শীতবস্ত্রের রেকর্ড বিক্রি

Printed Edition

আবুল কালাম

শৈত্যপ্রবাহে কাবু রাজধানীসহ সারা দেশে। শীতের দাপটে নিজেদের রক্ষায় হিমশিম সবাই। এ অবস্থায় ঢাকায় হিটার গিজারসহ শীত রেকর্ড বিক্রি রেকর্ড বেড়েছে। শীত নিবারণে উচ্চবিত্তরা গরম কাপড়ের জন্য শপিংমল আর রুম হিটার ও গিজারের জন্য ইলেকট্রনিক্সের দোকানে ভিড় করছেন। আর মধ্য ও নিম্নবিত্তরা গরম কাপড় কিনতে ছুটছেন ফুটপাথে। বিগত কয়েক দিন থেকে চলা টানা শীতে এমন দাপটের পরও সুখবর মিলছে না। উল্টো তীব্র শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিরাজমান ঘন কুয়াশা, হিমেল হাওয়ায় তাপমাত্রা আরো কমে রেকর্ড ভঙ্গ হতে পারে। তবে আপাতত

আগামী চার দিন এমনটা অব্যাহত থাকবে।

শীতের এমন তীব্রতায় রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল, বিপণিবিতান, ইলেকট্রনিক্স মার্কেট ও ফুটপাথ ঘুরে দেখা যায়, গরম কাপড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। আর শীতের কাপড় ছাড়াও উচ্চবিত্তের চাহিদা হিটার আর গিজারে। তাই নিম্নবিত্তরা শপিংমলের তুলনায় ফুটপাথের দোকানগুলোতে পুরনো ও নতুন সোয়েটার, জ্যাকেট, চাদর, হুডি ও কম্বল কিনতে ভিড় করছেন। অন্য দিকে বিপণিবিতানে দামি শীতবস্ত্র ছাড়াও ঘর উষ্ণ রাখতে রুম হিটার, গরম পানির গিজার, ইলেকট্রিক কেটলি ও হটপট কিনতে ইনেকট্রনিক্স দোকানে উচ্চবিত্তদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

ইলেকট্রিক দোকানের বিক্রেতারা বলছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের ক্রেতা অনেক বেড়েছে। প্রতিদিন রুম হিটার, গিজারসহ শীত নিরাবরণে ইলেকট্রনিক্স পণ্য কিনতে লোকজন দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। একই অবস্থা বিপণিবিতান ও ফুটপাথে। শীত থেকে নিজেদের রক্ষায় সাধ্য অনুযায়ী মানুষ শীতবস্ত্র কিনছেন। তবে এর মধ্যে ক্রেতাদের অভিযোগও আছে। অনেকের ভাষ্য, ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। অতিরিক্ত শীতে কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। যা অনেকের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

ইলেকট্রনিকস পণ্যের বৃহৎ মার্কেটগুলো অন্যতম রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেটে বিক্রেতারা নয়া দিগন্তকে জানান, শীতের শুরু থেকে মৌসুমি এসব যন্ত্রের বিক্রি এমনিতেই বেড়ে যায়। তবে গত কয়েক দিনের তীব্র শীতে চাহিদা আরো বেড়েছে। যার বেশির ভাগ ক্রেতা গিজার ও হিটারের।

দামের বিষয়ে তাদের ভাষ্য, প্রতিটি গিজার মানভেদে সর্বনিম্ন সাড়ে তিন হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার পর্যন্ত রয়েছে। অন্য দিকে রুম হিটার সাড়ে তিন হাজার থেকে শুরু করে মান অনুযায়ী ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বৈদ্যুতিক জগ ২০০ থেকে এক হাজার টাকা এবং কেটলি ও ফ্লাস্ক ৬০০ থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ছোট হটপট ২০০ টাকা থেকে শুরু করে বড়গুলো এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

এ দিকে বিপণিবিতানের বিক্রেতারা নয়া দিগন্তকে বলেন, তাদের কাছে সাধারণত উচ্চবিত্তরাই শীতের কাপড় কিনতে আসেন। মান অনুযায়ী প্রতিটি সোয়েটার, জ্যাকেট, চাদর, হুডি ও কম্বল সর্বনিম্ন দেড় হাজার থেকে শুরু করে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্য দিকে ফুটপাথে নতুন কাপড় সর্বনিম্ন দেড় শ’ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা এবং পুরাতন কাপড় ১০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পুরনো বিদেশী কম্বল আর সিনথেটিকের তৈরি লেপ ৩০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাদর নতুন বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।

বিরাজমান পরিস্থিতিতে শীতের তীব্রতা বাড়ার শঙ্কা প্রকাশ করে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলছেন, কুয়াশার এই প্রবণতা আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং আগামী কয়েক দিনে শীতের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার ভাষ্য, দেশের অভ্যন্তরের জলাধার, বিল ও হাওর থেকে উৎপন্ন কুয়াশা, বিকিরণজনিত কুয়াশা, পাহাড়ি এলাকায় সৃষ্ট কুয়াশা এবং ভারতের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বায়ুতাড়িত কুয়াশা প্রবেশ করায় সামগ্রিকভাবে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়েছে। এই কুয়াশা মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলে অবস্থান করায় সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে ঠাণ্ডার অনুভূতিও আরো তীব্র হয়ে উঠছে।

অন্য দিকে আবহাওয়া অফিস বলছে, দেশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব আরো বিস্তৃত হতে পারে। এ ছাড়া আগামী দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। আজ রোবার থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা আছে।