ফিলিস্তিন ইস্যুতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের টুইটে ক্ষুব্ধ ইসরাইল
Printed Edition
এএফপি
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং শনিবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি লি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিওর নিচে মন্তব্য করেন। তার এই মন্তব্যে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছিল, ইসরাইলি সেনারা এক ফিলিস্তিনি শিশুকে নির্যাতন করছে এবং ছাদ থেকে ফেলে দিচ্ছে।
শুক্রবার এক্সে লি লিখেছিলেন, ‘আমাকে খতিয়ে দেখতে হবে এটি সত্যি কি না- আর যদি সত্যি হয়, তবে এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’ এএফপি ওই ভিডিওর উৎস শনাক্ত করতে পারেনি, তবে এটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি দুই বছর আগে পশ্চিম তীরে এএফপিটিভির ক্যামেরায় ধরা পড়া একটি ঘটনার ভিন্ন আঙ্গিক। সে সময় সাংবাদিকরা দেখেছিলেন, একজন ইসরাইলি সেনা পা দিয়ে এক মৃতপ্রায় প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দেহ ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিচ্ছে। এর পর, ২০২৪ সালে হোয়াইট হাউজ ওই ফুটেজকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করে এবং ১৯৬৭ সাল থেকে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান অভিযানের মধ্যে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেছিল।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে শনিবারই এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাটি ইতোমধ্যে ‘তদন্ত এবং নিষ্পত্তি’ করা হয়েছে। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক বিবৃতিতে বলে, ‘প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং কোনো এক অদ্ভুত কারণে ২০২৪ সালের একটি পুরনো ঘটনা খুঁড়ে বের করেছেন এবং একটি ভুয়া অ্যাকাউন্টের বরাতে সেটিকে বর্তমানের ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছেন।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘ওই অ্যাকাউন্টটি ইসরাইল-বিরোধী অপপ্রচার এবং মিথ্যে তথ্য ছড়ানোর জন্য কুখ্যাত।’
এ দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, লি-র ওই পোস্টে ইসরাইলি নির্যাতনের সাথে ইহুদি ও কোরীয়দের ওপর অতীতে হওয়া নৃশংসতার যে তুলনা করা হয়েছে, তা আসলে কোনো নির্দিষ্ট ইস্যুর ওপর মন্তব্য নয়, বরং ‘সর্বজনীন মানবাধিকারের’ প্রতি একটি আহ্বান মাত্র।