রমজানের বাজার
২ কোটি ৭২ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
আসন্ন রমজান মাসে অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোজ্যতেলের চাহিদা, সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে দুই কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এ তেল কেনা হবে। কানাডার প্রতিষ্ঠান ‘এনএসরিক গ্রীন সাপ্লাইজ’ দুই লিটারের পেট বোতলে এ তেল সরবরাহ করবে। প্রতি লিটার তেল ১.০৭৫ ডলার (১৩১ টাকা ৪৯ পয়সা) দরে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত পৌঁছাতে এতে মোট ব্যয় হবে দুই কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২৫০ ডলার। প্রতি ডলার ১২২.৩২ টাকা হিসাবে বাংলাদেশী মুদ্রায় এতে মোট ব্যয় হবে ৩৫৭ কোটি ৬২ হাজার ১০০ টাকা। এই তেলের উৎস হচ্ছে ব্রাজিল, কিন্তু কেনা হচ্ছে কানাডিয়ান কোম্পানি থেকে।
কাল বুধবার অনুষ্ঠেয় ‘সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে এ সভাটি অনুষ্ঠিত হবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এ সয়াবিন তেল অভ্যন্তরীণ বাজার মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে এবং ক্রয় মূল্যের চেয়ে অধিক দরে বিক্রি করা হবে। ফলে এতে সরকারের অতিরিক্ত কোনো ভর্তুকির প্রয়োজন হবে না।
সূত্র জানায়, বিগত কয়েক বছরের রমজানের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, রমজানে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রবণতাসহ ব্যবসায়ীদের পণ্যের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরির অপচেষ্টা থাকে। এ বছরেও এ ধরনের তৎপরতার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আসন্ন রমজানে সয়াবিন তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে সয়াবিন তেল আমদানি করা হলে বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং বাজার স্থিতিশীল থাকবে। রমজানে বাজারে ৫০ হাজার মেট্রিক টন সয়াবিন তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।
সয়াবিন তেল আমদানির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ০.২৪৫ ডলার কম দরে এ সয়াবিন তেল কেনা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলিত দর ছিল প্রতি লিটার ১ দশমিক ৩২০ ডলার। এর বিপরীতে প্রতি লিটার ১.০৭৫ ডলার দরে কেনা হচ্ছে। আমদানিকৃত এ সয়াবিন তেলের উৎস হচ্ছে ব্রাজিল।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যথা- পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল, ছোলা এবং মসলা-শুকনা মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, ধনিয়া, জিরা, আদা, হলুদ, তেজপাতা, সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, চিনি, লবণ (বিট লবণ ব্যতীত), আলু, খেজুর, রাইস ব্রান তেল, সানফ্লাওয়ার অয়েল ও ক্যানোলা অয়েলসহ অন্যান্য পণ্য প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি বা অন্য যেকোনো ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে ক্রয়ের নীতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্ত গত বছর ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এর মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে।