শীর্ষ পদে পদায়ন ঘিরে অস্থির ব্রি
Printed Edition
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়ম ভেঙে পদোন্নতি ও নানা সুবিধা নেয়া, আত্মীয়করণ এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সমালোচিত ড. মো: রফিকুল ইসলামকে মহাপরিচালক করার তৎপরতাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) তীব্র অসন্তোষ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাকে শীর্ষ পদে বসাতে সক্রিয় থাকায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বিভাজন আরো প্রকট হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংস্থাটিতে প্রশাসনিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। মহাপরিচালক ড. মো: খালেকুজ্জামান অবসরে যাওয়ার পর শূন্য পদ পূরণ নিয়ে প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বর্তমান পরিচালক (গবেষণা) ও রুটিন দায়িত্বে থাকা ড. মো: রফিকুল ইসলামকে মহাপরিচালক পদে পদায়নের বিষয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।
ড. মো: রফিকুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি পরিচালক (গবেষণা) নিযুক্ত হন। একইসাথে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বও পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি তার চেয়ে সিনিয়র তিন কর্মকর্তাকে ডিঙ্গিয়ে পদোন্নতি পান, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
অন্য দিকে নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে ব্রি’র ভেতরে দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন গ্রুপিং ও মতপার্থক্য রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৭৫টি পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে লিখিত, মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ এবং ভুয়া প্রার্থী যোগ দেয়ার সময় ধরা পড়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের একাংশ। তাদের দাবি, এসব কারণে প্রশাসনিক পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং গবেষণা কার্যক্রমও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ড. মো: রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক আত্মীয় নিয়োগ ও প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে। সেই সাথে রয়েছে, অতীতে বিভিন্ন সময়ে তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহলের সাথে ঘনিষ্ঠ থাকার অভিযোগ। বিগত সরকারের সময় ব্রি কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে তার নেতৃত্বে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের একটি ছবি বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।
ড. রফিকুল ইসলামের বক্তব্য
অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ‘আমার বিষয়ে যা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব অপপ্রচারে লিপ্ত। ব্রি’র ৮০ শতাংশ লোক আমাকে ভালো জানে এবং আমি সততা ও দৃঢ়তায় বিশ্বাসী’।
আমার দীর্ঘ কর্মজীবনের সুনাম ক্ষুণœ করার উদ্দেশ্যে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।