ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাবে ইরান

ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় অস্বীকৃতি

Printed Edition

টাইমস অব ইসরাইল

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ঘোষণা দিয়েছেন, দেশটির ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা হবে না। তিনি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ইরানকে ভয় দেখাতে পারবে না। রোববার তেহরানে এক সম্মেলনে আরাকচি বলেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য ইরানকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। তাই এ অধিকার থেকে তারা সরে আসবে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিচালনার অধিকার কারো নেই। ইরান তার নিজস্ব অধিকার অনুযায়ী সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাবে।’ আরাকচির এ বক্তব্য ইঙ্গিত দেয়, আন্তর্জাতিক চাপ ও সামরিক হুমকি সত্ত্বেও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সাথে পরোক্ষ বৈঠক করেন আরাকচি। এর দু’দিন পরই তিনি এমন ঘোষণা দিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ ইরানকে ভীত করে না উল্লেখ করে আব্বাস আরাকচি বলেন, ‘এ অঞ্চলে তাদের সামরিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন আমাদের ভীত করে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের কথায় যদি ইরান চুক্তি না করে তাহলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে বলে অসংখ্যবার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহম লিংকনসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ ইরানের কাছে নিয়ে এসেছেন তিনি। গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ট্রাম্প তখন দাবি করেছেন তেহরানের পরমাণূ কর্মসূচি পুরোপুরি নিঃশেষ করে দিয়েছেন, কিন্তু তিনি এখন আবার চুক্তি করতে চাইছেন।

এদিকে আলজাজিরা জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কোনোভাবেই আলোচনার বিষয় নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালালে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করবে।

শনিবার আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ওমানের মাসকটে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সরাসরি না হলেও মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ হয়েছিল। তিনি এটিকে ভালো সূচনা হিসেবে উল্লেখ করলেও বলেন, আস্থা গড়ে তুলতে এখনো অনেক পথ বাকি। তেহরানের সাধারণ মানুষ অবশ্য আশাবাদী নন। তারা মনে করেন, আগের মতো এবারো আলোচনায় কোনো ফল আসবে না, কারণ দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি নয়। কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক আবদুল্লাহ আল-শায়জি বলেন, নতুন কোনো চুক্তির আশা থাকলেও তিনি আশাবাদী নন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং ইসরাইলের প্রভাবে ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

শুক্রবার আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ ও তেল রফতানি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন শিপিং কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। আরাঘচি বলেন, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ইরানের অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং তা অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে আশ্বস্তকারী চুক্তি করতে ইরান প্রস্তুত। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি প্রতিরক্ষা ইস্যু হওয়ায় তা আলোচনার বাইরে। ওয়াশিংটন ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়টি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে। ইসরাইলও এ দাবি জোরালোভাবে তুলছে। তবে তেহরান বারবার জানিয়েছে, আলোচনার পরিধি পারমাণবিক ইস্যুর বাইরে যাবে না। গত বছর ইসরাইলের নজিরবিহীন বিমান হামলার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে যায়। ওই হামলার পর ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়।

সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর যুক্তরাষ্ট্র হুমকি বাড়িয়েছে এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে। শনিবার মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ওই রণতরী পরিদর্শন করেন। উইটকফ সামাজিক মাধ্যমে জানান, এ রণতরী যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শক্তির মাধ্যমে শান্তির বার্তা বহন করছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করবেন। তার কার্যালয় জানিয়েছে, আলোচনায় ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আরাঘচি আশা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হুমকি ও চাপ থেকে বিরত থাকবে, যাতে আলোচনা অব্যাহত রাখা যায়।