চট্টগ্রামে ১৯ বছর আগের হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

১৯ বছর আগের একটি হত্যা মামলার রায়ে চারজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের সিনিয়র দায়রা জজ মো: হেমায়েত উদ্দিন। গতকাল বুধবার বিকেলে জনাকীর্ণ আদালতে ঘোষিত এই রায়ে মামলার দায় হতে চার আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া বড়ঘোপ বাজারের অদূরে ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর ইফতারের পর চাঞ্চল্যকর এরশাদুল হাবিব রুবেলকে নৃশংস কায়দায় খুনের দায়ে জাহেদুল ইসলাম ফরহাদ, আবু এরশাদ জুয়েল, রুস্তম আলী ও আব্দুল্লা আল মামুন সোহেলকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে খুনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মত্যুদণ্ড বহাল রাখা সাপেক্ষে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বলা হয়েছে রায়ে।

সূত্র জানায়, দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে জাহেদুল ইসলাম ফরহাদকে আদালতে হাজির করা হলেও বাকিরা পলাতক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া মামলার রায়ে আজাহারুল ইসলাম ছোটন (পলাতক), তৌহিদুল ইসলাম আরাফাত (জামিনে হাজির), হোসাইন মোহাম্মদ সাজ্জাদ (জামিনে হাজির), মোহাম্মদ সৈয়দ (জামিনে হাজির)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের নির্দোষ গন্য করে মামলার দায় হতে খালাস দিয়েছেন আদালত।

রাষ্ট্র্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সরকারী কৌশলী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো: আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক এবং আসামি পক্ষে ছিলেন- অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ, অ্যাডভোকেট প্রবীর কুমার ভট্টাচার্য, অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন, অ্যাডভোকেট লোকমান, অ্যাডভোকেট সভু প্রসাদ। এছাড়া পলাতক আসামিদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, এসডিএল অ্যাডভোকেট দুলাল চন্দ্র রায়।

প্রসঙ্গত জমি-জমার বিরোধকে ঘিরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর ইফতারের পর বড়ঘোপ বাজারের অদূরে এরশাদুল হাবিব রুবেলকে নৃশংস কায়দায় খুন কুপিয়ে ও গুলি করে খুন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদি হয়ে একই বছরের ১৭ অক্টোবর ১৮ জনের বিরুদ্ধে কুতুবদিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে আটজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ১৫ জন সাক্ষীকে পরীক্ষা করে এই রায় ঘোষণা করেন বলেও সূত্র জানায়।