তদন্ত কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন সজীব ভূঁইয়ার
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
- এখতিয়ার বহির্ভূত তদন্ত
- প্রজ্ঞাপনেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেয়া
- সংশ্লিষ্ট সবার আদালত অবমাননা
- বোর্ডে ডিরেক্টরের পদে লোভ দেখানো
- রাজি না হলে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ
- লবিংয়ে ব্যস্ত স্বনামধন্য এক ক্রিকেটার
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘিরে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় অংশ না নেয়া সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি তদন্ত কমিটির ডাকে কেন সাড়া দেননি, তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েই। বিষয়টি এখন আর কেবল একটি তদন্ত প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ নেই বরং এটি রূপ নিয়েছে প্রশাসনিক ক্ষমতা, আইনি সীমারেখা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার এক জটিল বিতর্কে।
তদন্ত কমিটি তাদের কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে অবাক করার মতো কিছু চোখে পড়েনি। কাউকে অভিযুক্ত করেনি তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান এ কে এম আসাদুজ্জামান দাবি করেছেন নিরপেক্ষতার। তবে এই প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিতি ছিল সজীব ভূঁইয়া। তাকে ডাকা হলেও তিনি হাজির হননি, যা তদন্তের পূর্ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর তদন্ত কমিটির প্রধান এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কাউকে অভিযুক্ত করে নয়, আমরা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়েছিল, তিনি আসেননি।’
এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান বর্ণনা করেছেন আসিফ মাহমুদ, ‘আমি কেন বিসিবি-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে সাড়া দেইনি। প্রথমত, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির ওপর এখতিয়ার বহিভূঁতভাবে তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে তদন্ত করে তদন্ত কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সবাই আদালত অবমাননা করছেন। চতুর্থত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড ডিরেক্টরদের পরের বোর্ডে ডিরেক্টর পদের লোভ, লোভে রাজি না হলে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করাচ্ছেন।’
আমিনুল ইসলাম বুলবুল নির্বাচিত হওয়ার সময়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা থাকা আসিফ আরো দাবি করেন, ‘বিসিবির বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিচালকদের পদত্যাগের ঘটনাও স্বাভাবিক নয় এবং এর পেছনে প্রভাব বা চাপ থাকতে পারে। ‘যখন আমাকে তদন্ত কমিটি থেকে সাক্ষাৎকাদের বিষয়ে জানানো হলো। তাদেরকে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তারা তদন্ত করতে পারেন কি না জানতে চেয়ে কোনো সদুত্তর পাইনি।’
নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, ‘কিভাবে সরকার চালাতে হয়, কিভাবে প্রজ্ঞাপন দিতে হয়, কোনটা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কোনটা বিচারাধীন বিষয়, কোনটা আদালত অবমাননা এটা হয়তো আপনারা বোঝেন না অথবা তোয়াক্কা করেন না। আমি তো আর জেনে-বুঝে এসব নিয়মবহিভূঁত আদালত অবমাননার মতো কাজে শামিল হবো না। এ জন্যই বিসিবি-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারের নোটিশে আমি সাড়া দেইনি।’
বিসিবির পরিচালকদের মধ্যে ইতোমধ্যে সাতজন পদত্যাগ করেছেন, যা পুরো পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে আরো। এমন প্রেক্ষাপটে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলেও তা ঘিরে বিতর্ক থামেনি; বরং তদন্তের বৈধতা, প্রক্রিয়া এবং উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে নতুন করে।
লবিংয়ে ব্যস্ত স্বনামধন্য এক ক্রিকেটার
বোর্ডের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার প্রক্রিয়া যখন সামনে তখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘লবিং’ ইস্যু। সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসির সম্ভাব্য শাস্তি এড়াতে একজন স্বনামধন্য ক্রিকেটার সক্রিয়ভাবে লবিং করছেন! তার দাবি, এই লবিংয়ের উদ্দেশ্য হলো বোর্ড ভাঙার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক বাধা থেকে রক্ষা করা। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন ‘অবৈধভাবে বোর্ড ভাঙার প্রক্রিয়ায় আইসিসি যেন কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একজন স্বনামধন্য ক্রিকেটার লবিংয়ে ব্যস্ত। সম্প্রতি তিনি সাবেক বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের সাথে লন্ডনে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি আইসিসি প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ পুত্র জয় শাহের সাথে বৈঠকের ব্যবস্থা করে দিতে পাপনকে অনুরোধ জানান। এর আগেও বিরাট কোহলির মাধ্যমেও চেষ্টা করেছিলেন।’