সরকার না আমরাই বেশি টাকা দেই : মিরাজ

Printed Edition
Sports-1
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন কোয়াব সদস্যরা : নয়া দিগন্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

যখন মাঠে টস হওয়ার কথা, টিকিট প্রদর্শন করে যখন দর্শকরা গ্যালারিতে প্রবেশ করছেন ঠিক তখন বনানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি মানা না হলে ক্রিকেটারদের অবস্থানেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই অনড় রয়েছে কোয়াব। তাদের স্পষ্ট ঘোষণা, দাবি পূরণ না হলে তারা বিপিএলে খেলবেন না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুমিনুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, শুভ, তাসকিন আহমেদসহ জাতীয় দলের একাধিক সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার।

সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ক্রিকেটাররা। সেখানে তারা জানিয়েছেন, খেলার জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত, তবে একমাত্র শর্ত হলো বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে পদত্যাগ। এ ছাড়া ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের চলমান সঙ্কট, নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগে বিসিবির ভূমিকা, নারী ক্রিকেটে সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবি সামনে আনা হয়।

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ সবচেয়ে স্পষ্ট ও কঠোর ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। বোর্ড পরিচালকের মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় বলি বোর্ড আমাদের অভিভাবক। তারা এমন মন্তব্য করলে আমাদের জন্য দুঃখজনক।’

ক্রিকেটারদের আয় ও বোর্ডের অর্থনৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রচলিত ধারণার কড়া সমালোচনা করেন মিরাজ। ‘জিনিসটা আসলে এ রকম না। আমরা যে টাকা আয় করি, বেশির ভাগ আইসিসি ও স্পন্সর থেকেই আসে। আজ বিসিবির যে টাকা আছে, বাংলাদেশের জার্সি পরে একটা ম্যাচও যে খেলেছে তারও এখানে অংশ আছে। প্রতিটি মানুষের কষ্টের বিনিময়ে আজকের বোর্ডের টাকা। এতে প্রত্যেক মানুষের হক আছে।’

মাঠে ক্রিকেট না হলে বোর্ডের অবস্থানও টেকসই হবে না, এ কথাও স্পষ্ট করে বলেন ওয়ানডে অধিনায়ক। ‘মাঠে খেলা হচ্ছে বলেই বোর্ড ভালো জায়গায় আছে। খেলাই যদি না হয়, স্পন্সরও আসবে না, আইসিসি থেকে লভ্যাংশও আসবে না।’

নাজমুল ইসলামের মন্তব্যকে শুধু ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মনে করেন মিরাজ। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু ব্যক্তিগত না। ক্রীড়াঙ্গনের জন্যই এটা লজ্জাজনক। উনি যে মন্তব্য করেছেন জানি না কিভাবে করেছেন বুঝে নাকি না বুঝে। দায়িত্বে থেকে এমন মন্তব্য করা উচিত না। আমরা সবসময় চেষ্টা করি ভালো খেলার। আবার সমালোচিতও হই। পারফর্ম না করলে এমন খেলোয়াড় নেই, যার সমালোচনা হয়নি।’

সরকারি অর্থ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণার জবাব দিতেও পিছপা হননি তিনি। মিরাজ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘অনেকের ধারণা সরকার থেকে আমরা টাকা পাই। আমরা যে আয় করি, আমরাই সবচেয়ে বেশি আয়কর দেই, ২৫-৩০ শতাংশ সরকারকে টাকা দেই।’