এবার কি ঘুচবে অপেক্ষার পালা

বাংলাদেশ-ভারত আরেকটি ফাইনাল আজ

Printed Edition
Sports-1
মালদ্বীপের রাজধানী মালের সাগর পাড়ে অনূর্ধ্ব-২০ সাফের ট্রফি নিয়ে ফটোসেশনে বাংলাদেশ ও ভারত অধিনায়ক : বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ পুরুষ সাফ। প্রথমে এটি অনূর্ধ্ব-১৯ বছর বয়সীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। ২০১৭ সালে তা অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলারের নিয়ে হয়েছিল। এরপর থেকে এক বছর অনূর্ধ্ব-১৯ দের জন্য। পরের বছর অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলাররা খেলছেন। সেই ধারাক্রমেই এবার অনূর্ধ্ব-২০ সাফ। মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে ২৩ মার্চ শুরু হওয়া এ আসরের ফাইনাল আজ। এ প্রথম ১১৯০ দ্বীপের এ দেশে প্রথম বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে বয়সভিত্তিক কোনো সাফ। বাংলাদেশের ফুটবলে বড় কোনো সাফল্য নেই মালদ্বীপের মাঠে। ২০০০ সালে হওয়া মালদ্বীপের গোল্ডেন জুবিলি টুর্নামেন্ট এবং ২০২১ সালের সাফ দুই আসরেই লাল-সবুজদের ফাইনালে উঠতে না পারার কস্ট। এবার সে প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। আর এখন মালদ্বীপের মাঠে প্রথম শিরোপা এবং অনূর্ধ্ব-১৮, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-২০ সাফের ফাইনালে প্রথম বারের মতো ভারতের বিপক্ষে জয়ের অপেক্ষার অবসানের পালা। পিটার কক্স বাহিনী যদি আজ এ জয়টি পায় তাহলে আগের তিন সাফের ফাইনালে হারের বদলা নেয়ার পাশাপাশি এ আসরের শিরোপাও পুনরুদ্ধার করতে পারবে। বাংলাদেশ সময় রাত নয়টায় শুরু হবে এ ম্যাচ।

অনূর্ধ্ব-১৮ থেকে অনূর্ধ্ব-২০ সাফে বালাদেশ একবারই চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছিল। তা ২০২৪ সালে নেপালের মাঠে। সেবার ফাইনালে মারুফুল হকের দল ৪-১ গোলে হারিয়েছিল নেপালকে। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে নেপালিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে লাল-সবুজরা সেমিতে ভারতকে ১-১ এ ৯০ মিনিটের খেলা শেষে টাইব্রেকারে বাংলাদেশ ৪-৩ গোলে হারিয়েছিল ভারতকে। গোলরক্ষক আসিফ একটি শট রুখে দিলে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। এর আগে তিনবার বাংলাদেশের রানার্সআপে সন্তুষ্ট থাকার কষ্ট। ২০১৭ সালে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপালের কাছে ভারতের রহস্যজনক হার মাহাবুব হোসেন রক্সি/অ্যান্ড্র অর্ড বাহিনীকে চ্যাম্পিয়ন হতে দেয়নি। ওই ম্যাচে ভারত জিতলে তারা রানার্সআপ হতো। আর বাংলাদেশ হতো চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু ভারতীয় ফুটবলাররা রানার্সআপ ট্রফি পাওয়ার চেয়ে যেন বাংলাদেশ যেন চ্যাম্পিয়ন হতে না পারে সে কৌশলেই খেলতে থাকে মাঠে। ভুটানের থিম্পুর মাঠে ভারতের সে হারই কাল হয়ে দাঁড়ায় টুটুল হোসেন বাদশা, রহমত মিয়া, জাফর ইকবাল, মাহাবুবুর রহমান সুফিলদের জন্য। এতে বাংলাদেশ ও নেপালের পয়েন্ট সমান হলেও হেড টু হেডে নেপাল জিতেছিল মাহাফুজ হাসান প্রীতমদের বিপক্ষে, যা নেপালিদের শিরোপা পাইয়ে দেয়। এরপর বাংলাদেশ ২০১৯ সালের ফাইনালে ভারতের কাছে ১০ জন নিয়েও ১-২ এ হেরে গিয়েছিল। ২০২২ সালে ভারত ও বাংলাদেশের ফাইনালের ৯০ মিনিটের খেলা ২-২ এ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে ভারত আরো তিন গোল দিয়ে ৫-২ এ ম্যাচ জিতে নেয়। আর গতবার ভারতের মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েও স্কোর ১-১ করে ফেলেছিল। কিন্তু টাইব্রেকারে আর রক্ষা হয়নি। বাংলাদেশ কিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন একটি টাইব্রেকার রুখে দিলেও পরে অন্য ফুটবলাররা গোল করতে ব্যর্থ হওয়ায় ভারত ৪-৩ এ জিতে শিরোপা পুনরুদ্ধার করে। উল্লেখ্য, এ আসরে ভারত সর্বাধিক চার বারের চ্যাম্পিয়ন। নেপাল জিতেছিল দুইবার। আর বাংলাদেশের দখলে একটি শিরোপা।

এবার বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দলই গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে সেমি ফাইনালে উঠেছিল। সেমিতে বাংলাদেশ ১-০ গোলে নেপালকে হারায়। আর ভারতের ৫-০তে জয় ছিল ভুটানের বিপক্ষে। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে ভারতের সাথে ১-১ ড্র করেছিল। ভারতীয়রা প্রথমে গোল করলেও পরে লাল-সবুজরা ম্যাচে ফেরে। রোনান সুলিভানের কর্নার থেকে ফাহিম গোল করলে স্কোর সমান হয়। এতে দুই দলের পয়েন্ট সমান হলেও ভারত গোল পার্থক্যে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ চারে ওঠে। এবারের সাফ মালদ্বীপে হলেও বাংলাদেশীরা যেন নিজ মাঠেই খেলছেন। কারন মালদ্বীপ প্রবাসী হাজার বাংলাদেশ উপস্থিত থাকেন মাঠে। তারা গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে উৎসাহ দেন ফুটবরলারদের। গত তিন ম্যাচে যেমন দেখা গেছে। আজও তাই হবে।

গতকাল মালের সাগর পাড়ে হয়েছিল দুই ট্রফি নিয়ে দুই দলের ফটো সেশন। এরপর মিডিয়াকে বাংলাদেশ অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী জানান, ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল হলেই অন্য শক্তি কাজ করে। তাদের কাছে হেরে আমি তিনবার ট্রফি জেতা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এবার আমরা তাদের হারাতে চাই। আমরা ফুটবলাররা সবাই প্রস্তুত। সবাইকে বার্তা দিয়ে দিয়েছি, মাঠে প্রবাসী বাংলাদেশী এবং টিভি ও মোবাইলে সরাসরি খেলা দেখা দর্শকদের জন্য ঐতিহাসিক এক ফাইনাল হবে এটি।