দুই সুপার ওভারের ম্যাচে দ: আফ্রিকার জয়
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
বড় ম্যাচ মানেই অতিরিক্ত মানসিক চাপ। আর তা যদি গড়ায় সুপার ওভারে তাহলে তো কথাই নেই। তবে ম্যাচ যদি প্রথম সুপার ওভারেও নিষ্পত্তি না হয় তাহলে স্নায়ুচাপটা কেমন হয়? এমনই এক স্নায়ুচাপের বিরল অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলো আফগানিস্তান বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটি। প্রথম সুপার ওভারেও নিষ্পত্তি না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে। আর সেই মাত্রারিক্ত স্নায়ুচাপ সামলে দ্বিতীয় সুপার ওভারে জয় তুলে নিয়েছে প্রোটিয়ারা।
টি-২০ বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ টিকে থাকার লড়াইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য জয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল দক্ষিণ আফ্রিকা। গতকাল আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ডি’-এর এই ম্যাচে নির্ধারিত ২০ ওভারে দুই দলই ১৮৭ রান করায় ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। প্রথম সুপার ওভারও টাই হলে দ্বিতীয় সুপার ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা চার রানে জয় নিশ্চিত করে।
রিকেলটন-ডি ককের ঝড়ো জুটি
টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রশিদ খান। শুরুতে ফজল হক ফারুকির দুর্দান্ত সুইংয়ে দ্রুত উইকেট হারালেও দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস গড়ে দেন দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটন। রিকেলটন করেন ২৮ বলে ৬১ এবং ডি কক করেন ৪১ বলে ৫৯ রান। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের ১১৪ রানের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করে দেয়।
রশিদ খানের ঘূর্ণি
তবে অধিনায়ক রশিদ খান ম্যাচে ফেরান আফগানিস্তানকে। একই ওভারে ডি কক ও রিকেলটনকে ফিরিয়ে দিয়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার রান তোলার গতি কমিয়ে দেন। শেষ দিকে মার্কো জানসেনের কয়েকটি বড় শটের সাহায্যে প্রোটিয়ারা পৌঁছে যায় ১৮৭/৬ এ।
গুরবাজের অবিশ্বাস্য ইনিংস
১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল। ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ একাই দক্ষিণ আফ্রিকার আতঙ্কে পরিণত হন। প্রোটিয়া বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে মাত্র ৪২ বলে ৮৪ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন। চার ওভারেই আফগানিস্তান ৫০ ছাড়িয়ে যায়। মনে হচ্ছিল হয়তো সহজ জয় পেতে যাচ্ছে আফগানরা।
ম্যাচসেরা এনগিডির দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন লুঙ্গি এনগিডি। প্রথম ওভারে রান দিলেও পরে সেøায়ার বলের নিখুঁত ব্যবহারে তিনি তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেট। তার ৩-২৬ বোলিং আফগানদের চাপে ফেলে দেয়।
অন্য দিকে কেশব মহারাজও নিয়ন্ত্রিত বেলিংয়ে চার ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন।
শেষ ওভারের নাটক : টাই ম্যাচ
শেষ ওভারে আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান, হাতে মাত্র এক উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকার জয় প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। কিন্তু কাগিসো রাবাদা টানা দু’টি নো বল করলে আফগানদের সুযোগ বাড়ে।
শেষ মুহূর্তে ভুল রান নেয়ার কারণে ফারুকি রান আউট হলে আফগানিস্তান ঠিক ১৮৭ রানেই অলআউট হয়। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।
প্রথম সুপার ওভার : স্টাবসের শেষ বলের ছক্কা
প্রথম সুপার ওভারে আফগানিস্তান তোলে ১৭ রান। দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ বলে ৬ দরকার। এ অবস্থায় বোলার ফজলহক ফারুকির শেষ বলে ট্রিস্টান স্টাবস ছক্কা হাঁকিয়ে স্কোর সমান করেন। আবারো টাই!
দ্বিতীয় সুপার ওভার : মিলার ঝড়ে আফগানদের স্বপ্নভঙ্গ
দ্বিতীয় সুপার ওভারে ডেভিড মিলার ১৬ ও স্টাবস ৭ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এনে দেন বিশাল ২৩ রানের সংগ্রহ। লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪। তবে মোহাম্ম নবী প্রথম বলটি ডট ও দ্বিতীয় বলে ক্যাচ আউট হলে স্ট্রাইক পান গুরবাজ। তখন চার বলে দরকার ২৪। গুরবাজ আবারো গর্জে উঠেন। প্রথম তিন বলে তিনটি ছক্কা মারেন কিন্তু শেষ বলে আর চাপ সামলাতে পারেননি। আউট হন তিনি । আফগানিস্তান থামে ১৯/২ এ। দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ৪ রানে।
ডাবল সুপার ওভারে দুর্ভাগ্য আফগানদের
টি-২০ ম্যাচে সুপার ওভারের দেখা মাঝে মধ্যে মিলে। তবে এক ম্যাচে ডাবল সুপার ওভার খুবই বিরল। এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচে তিনবার ডাবল সুপার ওভার হলেও তার দুইবারই ঘটেছে আফগানিস্তানের সাথে। আর দুইবারই আফগানরা হেরেছে। ডাবল সুপার ওভারের ম্যাচে ২০২৪ সালে ভারতের সাথে আর গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে হেরেছে রশিদ খানরা।
এ পরাজয়ে আফগানিস্তানের সুপার এইটে উঠার স্বপ্ন প্রায় শেষ হলেও গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান আরো শক্তিশালী হলো।