গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরক উদ্ধার
হাঙ্গেরি-ইউক্রেন সম্পর্কে নতুন টানাপড়েন
Printed Edition
সিএনএন
হাঙ্গেরির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে দেশটির সীমান্ত সংলগ্ন গ্যাস পাইপলাইনের কাছ থেকে বিস্ফোরকভর্তি দু’টি ব্যাগ উদ্ধারের ঘটনায় ইউক্রেন ও হাঙ্গেরির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তর সার্বিয়ার কানজিজা এলাকায় গত রোববার এই বিস্ফোরকগুলো পাওয়া যায় যা হাঙ্গেরিতে রুশ গ্যাস সরবরাহের প্রধান পাইপলাইনের খুব কাছে অবস্থিত।
সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিক জানিয়েছেন পাইপলাইনের মাত্র কয়েক শ’ মিটার দূরে দু’টি ব্যাগে শক্তিশালী বিস্ফোরক ও ডিটোনেটর পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পরপরই হাঙ্গেরির শীর্ষ কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি ইউক্রেনকে এর পেছনে দায়ী করার চেষ্টা করছেন। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওর্বানের দফতরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বালাজ ওর্বান দাবি করেছেন যে ইউক্রেন হাঙ্গেরিকে তাদের শান্তি বজায় রাখার অবস্থান থেকে সরিয়ে যুদ্ধে টেনে আনতে চাইছে। অন্য দিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। কিয়েভের দাবি হাঙ্গেরির নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে মস্কো নিজেই এই ধরনের সাজানো অভিযান বা ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ চালিয়ে থাকতে পারে। হাঙ্গেরির বিরোধী দল তিসা পার্টির নেতা পিটার ম্যাগয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নির্বাচনে ওর্বানের ভাগ্য ফেরাতে এটি একটি পরিকল্পিত নাটক হতে পারে।
আগামী ১২ এপ্রিল হাঙ্গেরিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী ওর্বানের ফিদেজ পার্টি বিরোধী দল তিসার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ওর্বান এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানাচ্ছেন এবং রাশিয়ার ওপর জ্বালানি নির্ভরতা আরো বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই উত্তেজনার মধ্যেই হাঙ্গেরির বর্তমান সরকারের সমর্থনে চলতি সপ্তাহে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বুদাপেস্ট সফরের কথা রয়েছে। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হাঙ্গেরি ও আমেরিকার সম্পর্ককে ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। সার্বিয়া ও হাঙ্গেরি দুই দেশই এখনো রাশিয়ার জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিক জানিয়েছেন তার সেনাবাহিনী ও পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করছে এবং এই বিস্ফোরকগুলো বিস্ফোরিত হলে অনেক মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারত। হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিয়ার্তো এই ঘটনাকে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন হামলার সাথে তুলনা করেছেন যা নিয়ে কিয়েভ ও বুদাপেস্টের মধ্যে দীর্ঘদিনের তিক্ততা রয়েছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এই বিস্ফোরক উদ্ধার হাঙ্গেরির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।