সিইসির সাথে বৈঠকে বিএনপি
বিদেশে পোস্টাল ব্যালটে একটি দলের পক্ষে কিছু কাজ হয়েছে
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিছু কাজ হয়েছে বলে আমাদের ধারণা ছিল, যা এখন প্রমাণিত হচ্ছে। আর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থীর নাম সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি বাসায় ২০০-৩০০টি ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও কোথাও ব্যালট জব্দ করা হচ্ছে। কোথাও আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে, যা ২২ তারিখে হওয়ার কথা। কোথাও একজনের নম্বর দিয়ে আরেকজন ব্যালট গ্রহণ করছে। এভাবে নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। বৈঠকে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। আর সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে চার সদস্য প্রতিনিধিদলে ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন সচিব ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়া ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পোস্টাল ব্যালট দেশের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হবে। সে কারণে সব নির্বাচনী এলাকায় যে ব্যালটে প্রতীকসহ প্রার্থীদের নাম থাকে, সেই একই ব্যালট সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তাব দিয়েছি। এ বিষয়ে আমরা সুস্পষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি। কারণ সব প্রতীকসহ পোস্টাল ব্যালট সব কনস্টিটুয়েন্সিতে পাঠানোর প্রয়োজন নেই এবং তা দেশের মধ্যে সম্ভবও নয়। প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব প্রার্থীর নাম ও প্রতীকসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহার হয়, সেটিই পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আশা করি, ইসি এটি গ্রহণ করবে। তারা জানিয়েছে, বিষয়টি বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন ও বিদেশে প্রেরণ কার্যক্রমে নানা অনিয়মের বিষয়টি ইসির কাছে তুলে ধরে এর ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের জন্য যেসব পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে, সেখানে সঠিকভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। যারা পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন ও প্রেরণের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, পোস্টাল ব্যালটে অনিয়মের ঘটনায় বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটদানের এই পদ্ধতি প্রথমবারের মতো প্রয়োগ হচ্ছে। এখানে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। কিন্তু যে ভুলভ্রান্তিগুলো হচ্ছে, তাতে আমরা ভিকটিম হচ্ছি।
ভোটার স্লিপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা চাই অধিকাংশ ভোটার নির্বাচনে অংশ নিক। ভোটার স্লিপের মাধ্যমে ভোট নম্বর, প্রার্থীর নাম ও প্রতীক জানলে বিষয়টি সহজ হয়। কিন্তু ভোটার স্লিপে দলের নাম, প্রতীক বা প্রার্থীর ছবি না দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। আচরণবিধি পরিবর্তনের এখতিয়ার যেহেতু নির্বাচন কমিশনের রয়েছে, সেহেতু বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া উচিত। প্রত্যেক প্রার্থী ভোটার স্লিপ দেবেন। সেই স্লিপ পেলে ভোটার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে, কাকে ভোট দেবেন। কিন্তু প্রক্রিয়াটি সহজ করা জরুরি। আমরা নির্বাচনকে কঠিন নয়, সহজ করতে চাই। যাতে অধিকাংশ নাগরিক ভোট দিতে পারেন।
তারেক রহমানের সফর ও আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি আগে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে আমাদের চেয়ারম্যান সম্মান দেখিয়ে তার সফর স্থগিত করেছেন। সেই সফরটা রাজনৈতিক ছিল না, নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যও ছিল না। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ, তাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো, কবর জিয়ারত করার উদ্দেশে ছিল। আমরা আচরণবিধির কারণে নয়, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সেটা স্থগিত করেছি। এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বিভিন্নভাবে যেসব বক্তব্য ও বিবৃতি দিচ্ছেন এবং সেটার ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে, তাতে করে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। এ ব্যাপারেও আমি দেখছি যে নির্বাচন কমিশন নির্বিকার। সুতরাং আমরা আশা করব তারা এটা অ্যাড্রেস করবেন।