দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ

দুদকের পৃথক মামলায় আসামি ইকবাল-মুর্শেদী, রেলকর্মকর্তা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে আট কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবাল, তার দুই ছেলে, সাবেক এমপি সালাম মুর্শেদী ও বি এইচ হারুণ এবং ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি পৃথক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অপর দিকে চাকরি দেয়ার নামে ৬৫ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে রেলের সাবেক সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৈয়দ আবজুরুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

গতকাল দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয় এবং রাজশাহীতে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে বলে মহাপরিচালক মো: আক্তার হোসেন জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে আট কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিরা হলেন, দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবাল, তার দুই ছেলে ব্যাংকটির পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল ও মঈন ইকবাল, পরিচালক ও সাবেক এমপি আবদুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক এমপি বজলুল হক হারুন, ব্যাংকের পরিচালক শফিকুর রহমান, জামাল গুপ্ত আহমেদ, শায়লা শেলী খান, চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফাত, এ এইচ এম ফেরদৌস, নব গোপাল বণিক, এমডি এম রিয়াজুল করিম, ডিএমডি ও ক্রয় কমিটির প্রধান সৈয়দ নওশের আলী, এসভিপি মোশফেক আলম খান এবং মাইন্ডটি লিমিটেডের এমডি ইকবাল আল মাহমুদ।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে মাত্র পাঁচটি কার্যাদেশের বিপরীতে আট কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ২০১১ সালের ৪ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত এইচ বি এম ইকবালের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বিজ্ঞাপন প্রচারের অজুহাতে মাইন্ডটি/মাইন্ডট্রি লিমিটেডের নামে মোট ৪৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৪ টাকা অগ্রিম জমা করা হয়। এই অগ্রিম জমা প্রকৃতপক্ষে আত্মসাতের কৌশল।

দুদকের অনুসন্ধান বলছে, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৪২ কোটি ২৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৪ টাকা সমন্বয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত অগ্রিম হিসেবে আত্মসাৎ করা ৯৬ কোটি ৪১ লাখ ৪১ হাজার টাকা এখনো অসমন্বিত রয়েছে। আর ২০২০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

সূত্র আরো জানায়, প্রতিটি টিভি চ্যানেলে ১০০ মিনিট বিজ্ঞাপন প্রচারের চুক্তি থাকলেও বাস্তবে প্রচার করা হয় মাত্র ৫০ মিনিট। সবমিলিয়ে মোট ২৪০০ মিনিট টিভিসি প্রচারের কথা থাকলেও বাস্তবে প্রচার হয়েছে মাত্র ১২০০ মিনিট। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে সম্পূর্ণ কাজ দেখিয়ে বাস্তবে অর্ধেক কাজ করেই পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের বিল, ভাউচার ও পে-অর্ডার পর্যালোচনায় দুদক দেখতে পায় পাঁচটি কার্যাদেশের বিপরীতে মাইন্ডটি লিমিটেডকে প্রকৃতপক্ষে দেয়া হয়েছে মাত্র এক কোটি আট লাখ টাকা। অবশিষ্ট আট কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

চাকরির নামে ৬৫ লাখ টাকা ঘুষ : সাবেক রেলকর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা: বাংলাদেশ রেলওয়েতে ‘খালাসি’ পদে চাকরি দেয়ার নামে ৬৫ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে রেলের সাবেক সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৈয়দ আবজুরুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

রাজশাহী দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো: আমির হোসাইন বাদি হয়ে এই মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একজন গণকর্মচারী হয়েও সৈয়দ আবজুরুল হক প্রতারণা ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে অসাধু উপায়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করার মিথ্যা আশ্বাস দেন। তিনি ২০১৫ সালের ভিত্তিতে ‘খালাসি’ পদে নিয়োগ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে আটজন চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে এস এ পরিবহনের মাধ্যমে এবং হাতে নগদ সর্বমোট ৬৫ লাখ টাকা ঘুষ নেন। আসামি ওই অর্থের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার ভুয়া আশ্বাস দেন, যা দণ্ডনীয় অপরাধ।

২০২১ সালে রেলওয়ে ১০৮৬ খালাসি পদে নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফল প্রকাশের পর থেকে নানা অনিয়ম ও বিতর্ক দেখা দেয় নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে। কারণ হিসেবে বলা হয়, ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর খালাসি গ্রেড-২০ পদে অনলাইন আবেদন শেষ হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষা হয় ২৫ নভেম্বর ২০২২ সালে। এরপর ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর খালাসি পদে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৫৫৯৯ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরের বছরের ২৬ জানুয়ারি খালাসি পদে নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয় ১৭৭২ জনের তালিকা দিয়ে।