৫ লাখ মানুষের চিকিৎসায় ১ জন ডাক্তার ১ যুগেও চালু হয়নি ৫০ শয্যার কার্যক্রম
বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
Printed Edition
খাদেমুল বাবুল জামালপুর ও আল মুজাহিদ বাবু বকশীগঞ্জ
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কাগজে-কলমে ৫০ শয্যার হলেও বাস্তবে এখনো চলছে ৩১ শয্যার সীমিত কার্যক্রমে। উদ্বোধনের এক যুগ পেরিয়ে গেলেও ৫০ শয্যার কোনো সেবাই চালু হয়নি। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন চিকিৎসক। ফলে নামমাত্র হাসপাতালটি কার্যত রোগীদের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, ২০১৩ সালে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ শেষে ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ৫০ শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন করা হলেও আজ পর্যন্ত জনবল ও যন্ত্রপাতি সঙ্কট কাটেনি। দীর্ঘ ১২ বছরেও চালু হয়নি পূর্ণাঙ্গ ৫০ শয্যার কার্যক্রম।
বর্তমানে এই হাসপাতালে কলসালট্যান্ট ও মেডিক্যাল অফিসার না থাকায় একমাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং একজন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার দিয়েই চলছে চিকিৎসাসেবা। অথচ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল শুধু বকশীগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নই নয়, ভৌগোলিক কারণে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলা এবং জামালপুরের রাজিবপুর-রৌমারী ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের ছয় থেকে সাতটি ইউনিয়নের মানুষও। প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ শতাধিক রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।
চিকিৎসক সঙ্কটের কারণে সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্যও রোগীদের ছুটতে হচ্ছে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল কিংবা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অনেকেই বাধ্য হয়ে যাচ্ছেন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে, যেখানে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত খরচ ও নানা হয়রানি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, গাইনি, চক্ষু, নাক-কান-গলা, অর্থোপেডিক, চর্ম ও যৌন, অ্যানেসথেসিয়া)সহ অন্তত ২৪ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও সবগুলোই শূন্য। পাশাপাশি ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার, প্যাথলজিস্ট, নার্সিং সুপারভাইজার, মিডওয়াইফ, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্টসহ সহায়ক জনবলের অধিকাংশ পদও খালি পড়ে আছে। হাসপাতালে দু’টি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র একটি, সেটিও প্রায়ই বিকল থাকে। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও কখনো ব্যবহার হয়নি, ইসিজি মেশিনও বেশির ভাগ সময় অচল থাকে।
রোগী রোকসানা বেগম ও আলাল উদ্দিন বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসেও ডাক্তার পাওয়া যায় না। শেষে বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়। রোকেয়া বেগম বলেন, হাসপাতাল আছে, কিন্তু ডাক্তার নেই; এটা খুব কষ্টের। বকশীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ উল হাসান বলেন, নামেই ৫০ শয্যার হাসপাতাল। জরুরি বিভাগে ডাক্তার না থাকায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি চরমে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রেজাউল ইসলাম বলেন, আমি ও একজন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ছাড়া এখানে কোনো চিকিৎসক নেই। জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা: ফজলুল হক জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।