ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সার সঙ্কট

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় খাদ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা

Printed Edition

দ্য গার্ডিয়ান

ইরান ও ইসরাইল-আমেরিকার মধ্যকার চলমান যুদ্ধের আঁচ এবার দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি খাতে পড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের পাশাপাশি সারের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভারত ও শ্রীলঙ্কার কৃষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে যা দীর্ঘমেয়াদে এ অঞ্চলে খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাঞ্জাবের কৃষক গুরবিন্দর সিংয়ের মতো হাজারো চাষি এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। হাজার মাইল দূরে চলা এই যুদ্ধের কারণে ধান ও গম চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে তারা সন্দিহান। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে সারের কাঁচামাল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস আসা থমকে গেছে। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সার ব্যবহারকারী দেশ এবং এর একটি বড় অংশই আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। যদিও ভারত সরকার দাবি করছে তাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং তারা বিকল্প উৎস খুঁজছে তবে বাস্তবে সারের দাম বাড়তে শুরু করেছে এবং অনেক জায়গায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বিশেষ করে ইউরিয়া সারের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। ভারতে ইউরিয়া তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরা আমন মৌসুমের চাষাবাদের আগে থেকেই সার মজুদ করার চেষ্টা করছেন, যা বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট ও আতঙ্ক তৈরি করছে। কর্নাটকের সার বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত ৩৫ বছরের ব্যবসায় তারা কৃষকদের মধ্যে এমন হাহাকার আগে কখনো দেখেননি। অন্য দিকে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। মাত্র কয়েক বছর আগে অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে সার কিনতে না পেরে দেশটি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী সুদান ও শ্রীলঙ্কা বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। শ্রীলঙ্কার কৃষকরা জানিয়েছেন, সারের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে এবং ঋণের ভয়ে অনেকে আগামী মৌসুমে ধান চাষ না করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। দেশটির জাতীয় কৃষি ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান অনুরাধা তেন্নাকুন সতর্ক করে বলেছেন, সরকার পর্যাপ্ত মজুদের কথা বললেও বাস্তবে সারের সঙ্কট প্রকট যা আগামীতে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে যে, এই যুদ্ধ যদি জুন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয় তবে বিশ্বে আরো চার কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসঙ্কটের মুখে পড়বে। সারের অভাব ফলন কমিয়ে দেবে যার সরাসরি প্রভাব পড়বে চাল ও গমের মতো নিত্যপণ্যের মজুদ ও দামের ওপর। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে সারের এই সঙ্কট কেবল উৎপাদনই কমাবে না; বরং এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সারের ভর্তুকি ও আমদানি ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে খাদের কিনারে ঠেলে দেবে।