ব্রি’র সঙ্কট নিয়ে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক : অংশগ্রহণকারীদের তালিকা ঘিরে প্রশ্ন
Printed Edition
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এ চলমান নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক অস্থিরতার প্রোপটে গতকাল কৃষি মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা ও প্রোপট ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা-৩ শাখা থেকে উপসচিব শেখ হাফিজুর রহমান স্বারিত এক চিঠিতে ব্রি’র সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য এ বৈঠক আহ্বান করা হয়। এতে ব্রি’র পে মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্বে থাকা ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানসহ মোট ছয়জন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিএসও) অংশ নেন। ড. খালেকুজ্জামানের দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার প্রাক্কালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্রিতে গত কিছু দিন ধরে নিয়োগ জালিয়াতি, বিতর্কিত পদোন্নতি এবং প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক অভিযোগ উঠছে। এসব ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক পরিবেশে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভাজনও বাড়ছে। বিশেষ করে পরিচালকের (গবেষণা) রুটিন দায়িত্বে থাকা ড. রফিকুল ইসলামকে ঘিরে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ দিকে সংশ্লিষ্টদের একাংশের অভিযোগ, বৈঠকে যেসব কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাদের অনেকেই অতীতে প্রশাসনিক সুবিধা প্রাপ্তি ও পদোন্নতি নিয়ে বিতর্কের সাথে জড়িত ছিলেন। ফলে ব্রি’র বর্তমান সঙ্কট নিরসনে এই বৈঠকের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্য দিকে ব্রি’র অভ্যন্তরে সক্রিয় বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের, বিশেষ করে নির্বাচিত বিজ্ঞানী প্রতিনিধি ও বঞ্চিতদের, এই বৈঠকে অন্তর্ভুক্ত না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট সব পরে অংশগ্রহণ ছাড়া ব্রি’র সার্বিক পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব নয়।
একাধিক সূত্র জানায়, ব্রি’র সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে এবং নিয়োগ জালিয়াতিসংক্রান্ত মামলাও চলমান রয়েছে। এমন প্রোপটে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তই এখন সময়ের দাবি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ব্রি’র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের চলমান সঙ্কট নিরসনে নিরপেতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি; অন্যথায় এ পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে।