অভিমানি হাঁস : শ্যামল বণিক অঞ্জন

Printed Edition
agdum-2
অভিমানি হাঁস : শ্যামল বণিক অঞ্জন

বাবার ডাক শুনে স্বপ্ননীল দৌড়ে বাবার কাছে গিয়ে বলল, কি হলো বাবা- ডাকছ কেন? বাবা বললেন, দ্যাখ তো হাঁসটার আজ কী হয়েছে! কোনো সাড়াশব্দ নেই! চুপচাপ, বিষয়টা কি? বাবার কথা শুনে স্বপ্ননীলও বলল- হ্যাঁ, তাই তো আজকে তো ওর তেমন একটি চঞ্চলতা আমার চোখে পড়ল না। সারাদিন চুপচাপ, খাবারও খায়নি। বাবা-ছেলের কথা শুনে স্বপ্ননীলের মাও এগিয়ে এলো, বলল- হ্যাঁ, আমিও বিষয়টি খেয়াল করেছি, আজকে সারাদিন ও ঘর থেকেই বের হয়নি। কারণটা আমি বুঝতে পারলাম না। হাঁসটার এমন আচরণে বাবাও খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন। কারণ এই হাঁসটি ওনাদের সবার খুব প্রিয়। সেই একদিন বয়সী একটি বাচ্চা ভরা শীতে কিনে এনে অনেক আদর যতেœ পালন করে তিলে তিলে বড় করে তুলেছে, এখন ডিম দিচ্ছে। তাছাড়া স্বপ্ননীলদের পরিবারের প্রতিটি মানুষের সাথে ওর একটা নিবিড় সম্পর্কও গড়ে উঠেছে। আর তাই হাঁসটিও কিছুটা আহ্লাদি স্বভাবেরও হয়ে গেছে। রাত ৮টা বাজলেই রাতের খাবারের জন্য সে উচ্চ শব্দে প্যাকপ্যাক করে সারা বাড়ি যেন মাথায় তুলে।

সবার প্রিয় হাঁসটির এমন বদলে যাওয়াতে সবাই চিন্তামগ্ন হয়ে গেল। বাবা বললেন, আচ্ছা তুই একটা কাজ কর স্বপ্ন, ওর জন্য খাবারটা রেডি করে নিয়ে আয়, দ্যাখ খায় নাকি। বাবার কথামতো স্বপ্ন ছুটে গেল হাঁসের জন্য খাবার আনতে। ক্ষণিক সময়ের মধ্যেই খাবার নিয়ে হাজির হলো; কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। ওর সঙ্গী হাঁসটা খাবার খেলেও ওই হাঁসটা কিছুতেই খাবার মুখে তুলল না, এমনি ফিরেও তাকাল না। এবার বাবা ছেলের দুশ্চিন্তা যেন আরো বাড়তে লাগল। ভাবল, আবার কোনো অসুখ-বিসুখ করল কিনা। এমন সময় মা এসে বললেন- একটি বিষয় আমি গভীরভাবে খেয়াল করলাম, গতকাল রাতে যখন হাঁসটা খাবারের জন্য চিৎকার করছিল তখন স্বপ্ন ওকে খুব জোরে একটা ধমক দিয়েছিল আর তখন থেকেই ও কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছে। মায়ের কথা শেষ না হতেই স্বপ্ন বলল- হ্যাঁ কালকে যখন স্যার আমাকে পড়াতে এসেছিল তখন হাঁসটা জোরে জোরে চেঁচামেচি করতে থাকে আর আমি কিছুটা বিরক্ত হয়ে ওকে একটা ধমক দেই বাবা।