ইসরাইলের নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনে জাতিগত বৈষম্য স্থায়ী হবে : জাতিসঙ্ঘ
Printed Edition
মিডল ইস্ট মনিটর
ইসরাইলের নতুন মৃত্যুদণ্ড আইন ফিলিস্তিনিদের ওপর জাতিগত বৈষম্যকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে এবং এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। শুক্রবার জাতিসঙ্ঘের জাতিগত বৈষম্য দূরীকরণ বিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায়।
আইনটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এটি অবিলম্বে বাতিলের জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি। এক বিবৃতিতে কমিটি বলেছে, ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনিদের ওপর এসব আদালতের নিরঙ্কুশ এখতিয়ার রয়েছে, যেখানে ইসরাইলি নাগরিক ও বাসিন্দাদের এর প্রয়োগ থেকে স্পষ্টভাবে বাদ দেয়া হয়েছে।’
আইনটি বাস্তবে শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্যই প্রযোজ্য উল্লেখ করে কমিটি জোর দিয়ে জানায়, এটি মৃত্যুদণ্ড কমানো, পরিবর্তন বা ক্ষমার সুযোগ নিষিদ্ধ করেছে। এ ছাড়া চূড়ান্ত রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য ৯০ দিনের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপক্ষকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ইসরাইলি সামরিক বা বেসামরিক কারাগারে বন্দী সব ফিলিস্তিনির আইনের দৃষ্টিতে সমান আচরণ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সহিংসতা বা শারীরিক আঘাত থেকে সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।’
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিগত বৈষম্য এবং তাদের আলাদা করে রাখার শামিল, এমন সব নীতি ও চর্চা বন্ধ করতেও ইসরাইলকে তাগিদ দেয়া হয়েছে বিবৃতিতে। কমিটি অন্যান্য রাষ্ট্রপক্ষগুলোর প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ‘তারা যেন সনদের অধীনে নিজেদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলে এবং নিশ্চিত করে যে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নীতি ও চর্চা প্রয়োগ বা সমর্থন করতে তাদের সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে না।’
মার্চের শেষের দিকে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে আইনটি পাস হয়। এর মাধ্যমে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলিদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডকে অবধারিত শাস্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসরাইলের কারা কর্তৃপক্ষের নিয়োগ করা কারারক্ষীদের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। এতে জড়িতদের পরিচয় গোপন রাখার পাশাপাশি তাদের আইনি দায়মুক্তিও দেয়া হবে।
আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের বিশেষ বন্দিশালায় স্থানান্তর করা হবে এবং সেখানে অনুমোদিত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎ সীমিত করা হবে। অন্যদিকে আইনজীবীদের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি শুধু ভিডিও যোগাযোগের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এই আইনের অধীনে সরকারি আইনজীবীদের অনুরোধ ছাড়াই আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিতে পারবে। এমনকি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন না থাকায় সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই রায় দেয়া যাবে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জড়িত থাকা মামলাগুলো পরিচালনাকারী সামরিক আদালতের ক্ষেত্রেও আইনটি প্রযোজ্য। এটি ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আদালতের সামনে নিজের মতামত তুলে ধরার অধিকারও দিয়েছে।