নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
স্বাভাবিক সময়ে নাগরিকদের নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কোনো নির্দেশনা থাকলে তা প্রযোজ্য হবে বলেও জানান তিনি।
গতকাল নয়া দিগন্তের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘সাধারণ সময়ে নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো সীমা নির্ধারণ করে দেয়নি। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশন যদি নগদ অর্থ বহনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা বা বিধিনিষেধ জারি করে, তাহলে সেটিই কার্যকর হবে।’
সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে বিভিন্ন অঙ্কের নগদ অর্থ বহন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগের সময়ে কয়েকটি ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ অর্থ উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, একজন নাগরিক আইনত সর্বোচ্চ কত টাকা নগদ বহন করতে পারেন।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের তথ্য ও সমালোচনামূলক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে, আবার অনেকে বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেনি, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি আরো বাড়িয়ে তুলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্যে এই বিভ্রান্তির একটি পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্বাভাবিক সময়ে ব্যক্তিগতভাবে নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে কোনো নির্ধারিত সীমা নেই। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে, কারণ তখন নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নাগরিকদের বিভ্রান্তি দূর করতে নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে স্পষ্ট বার্তা দেয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারে কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের আইনগত বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে এবং কোন সময় তা প্রযোজ্য নয়।