গাজীপুরে সরকারি জমি দখলের অনুসন্ধানে গিয়ে হামলার শিকার নয়া দিগন্তের সাংবাদিক
Printed Edition
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
গাজীপুরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি দখলের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক নয়া দিগন্তের জয়দেবপুর প্রতিনিধি আব্দুল আজিজ। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি জমি জবরদখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের তথ্য সংগ্রহ ও দখলদারদের পরিচয় উদঘাটনের চেষ্টা করায় তাকে প্রথমে প্রলোভন দেখানো হয়, পরে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে অপহরণেরও চেষ্টা করা হয়।
গতকাল দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার নয়নপুর আরপি গেইট এলাকার বারইপাড়া মৌজায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১০ জুন স্থানীয় এক ব্যক্তি সাংবাদিক আব্দুল আজিজকে ফোন করে জানান, আরপি গেইট এলাকায় বনভূমি ও সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। অভিযোগের সূত্র ধরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, নির্মাণাধীন স্থাপনার একটি অংশ বন বিভাগের দাগসংলগ্ন এলাকায় এবং বেশির ভাগ জমি জেলা প্রশাসকের ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত সরকারি সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য শত কোটি টাকারও বেশি। অথচ যথাযথ ডিমারকেশন (সীমানা নির্ধারণ) ও মালিকানা নির্ধারণ ছাড়াই সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণকাজ চলছিল। অনুসন্ধানকালে বিষয়টি বন বিভাগের নজরে আনা হলে বিভাগীয় কর্তৃপ নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধের উদ্যোগ নেয়। এর পর থেকেই দখলদার চক্রের চাপ ও তৎপরতা বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক আব্দুল আজিজ।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। এমনকি অবৈধ আর্থিক সুবিধা দেয়ার প্রস্তাবও দেয়া হয়। কিন্তু তিনি প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে দখলদার চক্র।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জমি দখলের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত রাসেল নামে এক ব্যক্তি তাকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেয়া ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করার পাশাপাশি একটি সাজানো নাটকের মাধ্যমে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। তার পকেটে জোর করে টাকা ঢুকিয়ে পরে তা বের করে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে মিথ্যা বক্তব্য আদায়ের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সাংবাদিক আব্দুল আজিজ তাতে সম্মত না হলে তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। একপর্যায়ে পথে সেনাবাহিনীর একটি চেকপোস্ট দেখতে পেয়ে তিনি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে চেকপোস্টে আশ্রয় নেন। সেনা সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে সরে যায় বলে জানা গেছে। পরে খবর পেয়ে সহকর্মী সাংবাদিকরা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন এবং হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র ােভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, সরকারি জমি দখলের অভিযোগের নিরপে তদন্ত এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমিতে কারা প্রভাব খাটিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে এবং সেই তথ্য প্রকাশে বাধা দিতে কেন একজন সাংবাদিককে হামলা ও অপহরণের চেষ্টা করা হলো, এ রহস্য উদঘাটনে এখন প্রশাসনের কঠোর পদপে প্রত্যাশা করছে সচেতন মহল।
এদিকে সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের সভাপতি ও গাজীপুর প্রেস কাবের তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য মো: দেলোয়ার হোসেন, ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাসস জেলা প্রতিনিধি মো: হেদায়েত উল্লাহ, টঙ্গী প্রেস কাবের সভাপতি আলহাজ মো: মেরাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো: আজিজুল হক অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।