সাক্ষাৎকার : রেজা কিবরিয়া

আ’লীগের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে শহীদের বাবা-মায়েরা ঘুমাতে পারবে না

অর্ধশিক্ষিতরা রাজনীতিকে ডুবাচ্ছে। তরুণদের রাজনীতিতে শিক্ষা শেষ করার আগেই জড়িয়ে পড়াকে তিনি কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ চিলড্রেনস পার্টি’ এটা ঠিক করছে না।

রাশিদুল ইসলাম
Printed Edition
রেজা কিবরিয়া
রেজা কিবরিয়া | সংগৃহীত

অর্থনীতিবিদ, লেখক ও রাজনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই ঘোলাটে। তবে তিনি কিছুদিনের মধ্যে রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হওয়ার আভাস দিয়েছেন। নয়া দিগন্তকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যাদের হালাল উপার্জনের সুযোগ নেই তাদের রাজনীতি করা উচিত না। দেশে এখনো দুর্নীতি কার্যকরভাবে রোধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। ছাত্রদের রাজনীতিতে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, এর পেছনে সরকারের একটা মোটিভ আছে। বিশেষ করে তরুণদের পড়াশুনা শেষ করে রাজনীতিতে আসার পরামর্শ দিয়ে রেজা কিবরিয়া বলেন, অর্ধশিক্ষিতরা রাজনীতিকে ডুবাচ্ছে। তরুণদের রাজনীতিতে শিক্ষা শেষ করার আগেই জড়িয়ে পড়াকে তিনি কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ চিলড্রেনস পার্টি’ এটা ঠিক করছে না।

রেজা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে অন্যকোনো দেশের নাক গলানোর সুযোগ নেই এমন মন্তব্য করে বলেন, তাহলে তো আমাদের দাবি তোলা উচিত ভারতে ফ্যাসিস্ট দল হিসেবে বিজেপি নিষিদ্ধ করতে হবে। ভারত রিজিওনাল বুলি হলেও সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে এ ধরনের আচরণ কিছুটা কমবে বলে আশা করেন রেজা কিবরিয়া। একই সাথে তিনি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, জার্মানিতে আজো নাৎসি পার্টিকে রাজনৈতিক অধিকার দেয়া হয় না। আওয়ামী লীগ তেমন এক ফ্যাসিস্ট শক্তি এবং এ দলটির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে শহীদদের বাবা-মা ঘুমাতে পারবেন না। রেজা কিবরিয়া (জন্ম ৬ মার্চ ১৯৫৭) দীর্ঘসময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে তিনি গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক, গণ অধিকার পরিষদ ও এর বিভক্ত দল আমজনতার দলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পাপুয়া নিউগিনি সরকারের রাজস্ব বিভাগের সামষ্টিক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন এবং কম্বোডিয়া সরকারের অর্থনীতি ও অর্থসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ম্যাক্রো ফিসক্যাল উপদেষ্টা ছিলেন।

কিবরিয়া অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতিতে স্নাতক, কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর অর্জন করার পর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমফিল ও ডিফিল অর্জন করেন। এরপর তিনি ১৯৮৪ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে যোগ দেন এবং ১৯৯৩ সালের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হয়েছিলেন। এরপর আট বছরের জন্য তিনি পিডিপি অস্ট্রেলিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্ব-আফ্রিকা আঞ্চলিক কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের সামষ্টিক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৬ সাল থেকে দুই বছরের জন্য তিনি কম্বোডিয়া সরকারের অর্থনীতি ও অর্থসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ম্যাক্রো ফিসক্যাল উপদেষ্টা ছিলেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি ইন্টিগ্রো হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন।

তিনি প্রথমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। ২০১৮ সালে চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে গণফোরামে যোগ দেয়ার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়।

নয়া দিগন্ত : আপনি যখন রাজনীতির মাঠে নামলেন তখন একটা আশার সঞ্চার হয়েছিল, আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থায় কাজ করার এক বিশাল অভিজ্ঞতা আপনার। রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে অনেক কিছু ঘটে যাওয়ার পাশাপাশি আপনি এখন অনেকটাই নিশ্চুপ, সার্বিকভাবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আপনার কাছে কেমন মনে হচ্ছে।

রেজা কিবরিয়া : সিচুয়েশন এখনো খুব ঘোলাটে। এ সরকারের কথাবার্তা আমার বিশ্বাস হয় না। তারা অনির্বাচিত লোক, যারা এক শ’ বছরে একটা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে জিততে পারবে না। এই লোকগুলোতো টাকা বানাচ্ছে, মন্ত্রিত্ব ভোগ করছে। তারা খুব সহজে ক্ষমতা ছাড়বে না। আর তাদের তো একটা মোটিভ আছে, তারা ছাত্রদের দলটাকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এটা ঠিক না। যারা ক্ষমতায় থাকবে, সুষ্ঠু নির্বাচন, ফেয়ার নির্বাচন দিতে হলে এ ধরনের কোনো মতলব থাকা ঠিক না। এটাই আমার মত।

নয়া দিগন্ত : তাহলে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎটা আপনি কিভাবে দেখছেন? আপনি অনেক আশা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন...

রেজা কিবরিয়া : এ মুহূর্তে ভালো কিছু দেখছি না, তবে ভালো কিছুর আশায় সবসময় থাকি। সিচুয়েশন খুবই ঘোলাটে। এই সরকারের কথা ও কাজের মধ্যে আমি মিল দেখতে পাচ্ছি না এবং দুর্নীতি যেভাবে বেড়েছে এটা তো খুব দুঃখজনক। এই দুর্নীতিগ্রস্ত অ্যাডমিনেস্ট্রেশন আমরা চাইনি। দুর্নীতি হলে শেখ হাসিনার লোকেরাই দুর্নীতি করছিল, অসুবিধা কী? এটাই।

নয়া দিগন্ত : জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার তাহলে কী হবে?

রেজা কিবরিয়া : আমি কোনো পথ দেখতে পাচ্ছি না। জনগণ থেকে হবে না। এটা এখন ভালোভাবে গড়তে আপনি যেভাবে পাচ্ছেন সেভাবে হবে না। অনেক কিছু আগে থেকে দেখা যায় না; কিন্তু ভালো কিছুই হবে সে আশাও তো আমাদের রাখতে হবে।

নয়া দিগন্ত : আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা কি সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করেন?

রেজা কিবরিয়া : আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এটা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে, ডন লিখেছে ইনক্লুসিভ নির্বাচন দেয়া দরকার। সবাইকে রাখা দরকার। নো, যে দলটা দুইবার গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, দুইবার, একবার না, একবার করলে ঠিক আছে, তাদের কোনো গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। তারা গণতান্ত্রিক কোনো সুবিধা পাবে এই অধিকার তারা হারিয়ে ফেলেছে। তারা হলো একটা ফ্যাসিস্ট পার্টি। যেমন নাৎসি পার্টি। নাৎসি পার্টিকে যেমন জার্মানিতে নির্বাচন করতে দেয় না, কারণ তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। আপনি খোঁজ করেন, কেন নাৎসি পার্টি ব্যান্ড? ঠিক আওয়ামী লীগের মতো নাৎসি পার্টি একই কাজ করেছিল। ঠিক এ কারণে আওয়ামী লীগকে কোনো সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কোনো কারণ নেই। যারা আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়ার কথা বলছে তাদের এ নিয়ে কোনো চিন্তা নেই, কোনো যুক্তি নেই।

নয়া দিগন্ত : হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছে, দ্রুত বিচার দাবি করা হচ্ছে।

রেজা কিবরিয়া : ওটা তো অবশ্যই করতে হবে। যে দল ১৫ শ’ বাচ্চাকে গুলি করে মারিয়েছে এই মহিলা, এর ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত এই বাচ্চাদের অভিভাবকদের ঘুম হবে না। সো আমাদের এ ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার এ ব্যাপারে শক্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়ার মতো তাদের মানসিকতা আছে কি না আমার সন্দেহ।

নয়া দিগন্ত : রাজনৈতিক দলগুলো কি সঠিক ভূমিকা পালন করতে পারছে?

রেজা কিবরিয়া : না, তারা কিছুই করতে পারেনি ১৫/১৬ বছরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। জনগণ তাদের ওপর আস্থা হারিয়েছে। এটাও পরিষ্কার।

নয়া দিগন্ত : এখন তো নির্বাচন ও সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে? আপনি বলছেন পরিস্থিতি ঘোলাটে, এখান থেকে একটা ওয়ে আউট কিভাবে বের করা যায়?

রেজা কিবরিয়া : আমি জানি না। আমি কোনো ওয়ে আউট দেখছি না।

নয়া দিগন্ত : বাংলাদেশের মানুষ রাতের নির্বাচন দেখতে চায় না; কিন্তু ভারত তো বলছে বাংলাদেশে ইনক্লুসিভ নির্বাচন দরকার। ভারত এ-ও বলছে আওয়ামী লীগকে সঠিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি। সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে নির্বাচন কিভাবে হবে, কোন দল নিষিদ্ধ তা বলার এখতিয়ার কি অন্য দেশের আছে?

রেজা কিবরিয়া : আমাদের দাবি করা উচিত বিজেপির মতো হিন্দুত্ববাদী দলকে নিষিদ্ধ করা। তারা একটা ফ্যাসিস্ট দল। ধর্মভিত্তিক একটা ফ্যাসিস্ট দল। তাদেরকে নিষিদ্ধ করা উচিত। আমাদের দাবি। আমরা মনে করি না যে, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার দেয়া সঠিক। আমি এটা সঠিক মনে করি না। এটাও আমরা বলতে পারি। সো এতে কিছু যায় আসে না। আরেক দেশ কী বলে-না বলে আপনার আমার দেশ সম্পর্কে এতে কোনো ইন্টারেস্ট নেই আমার। ভারত বা বিজেপির মতো।

নয়া দিগন্ত : ওআইসি যখন বলল ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে তখন দেশটি একে বলেছে ওআইসির তা বলার এখতিয়ার নেই। অনধিকার চর্চা এটি, তো ভারত একই কাজ বাংলাদেশের ব্যাপারে কিভাবে করে?

রেজা কিবরিয়া : সেটি আপত্তিকর। আমাদের তো কাশ্মির নিয়ে রাস্তায় নামা উচিত। গুজরাটে মুসলমানদের যে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে, এটা নিয়ে আমাদের রাস্তায় নামা উচিত।

নয়া দিগন্ত : ভারত যদি মনে করে কোনো দেশ থেকে জঙ্গি হামলা হয়েছে, আলোচনার টেবিলে না গিয়ে, কূটনীতির পথ দিয়ে বিষয়টির ফয়সালা না করে ভারত যুদ্ধ শুরু করছে, ভারতের এই আচরণ কি দক্ষিণ এশিয়ার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে?

রেজা কিবরিয়া : ভারত একটা ‘রিজিওনাল বুলি’; কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার উইপন আছে, পাকিস্তানের সাহসও আছে, অস্ত্র আছে এবং তারা যে শিক্ষা দিয়েছে ভারতকে আমি আশা করি ভবিষ্যতে আরো বড় শিক্ষা দেবে এবং এই রিজিওনাল বুলি ভারতের যে সাহসিকতা তা পাকিস্তানের শিক্ষায় একটু কমবে।

নয়া দিগন্ত : এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মতো ছোট দেশগুলোর নিরাপত্তায় কেমন প্রস্তুতি দরকার? ভারতীয় মিডিয়ায় বলা হচ্ছে চিকেন নেকের কাছে মিসাইল মোতায়েন করা হয়েছে, ফেনি নেকের কথা বলা হচ্ছে, চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে বিচ্ছিন্ন করার কথাও বলা হচ্ছে, ওদিকে রাখাইনে আরাকান আর্মির উত্থান ঘটছে....

রেজা কিবরিয়া : আপনি জাস্ট অপেক্ষা করেন কে কার নেক বিচ্ছিন্ন করে; সেটি দেখা যাবে। ওকে? আমাদের আর্মির সাহসিকতার ওপর আমি ভরসা করি। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির ওপরও আমি ভরসা করি। ভারতের কোনো বন্ধু নেই। চার পাশে সব শত্রু। আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে খুব শক্ত বন্ধু আছে। সো আমাদের কোনো সমস্যা হবে না ইনশা আল্লাহ।

নয়া দিগন্ত : আরাকানে করিডোর দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফেরত পাঠানোর কথা শোনা যাচ্ছে? মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে না, এখনো হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে....

রেজা কিবরিয়া : এটা ঠিক, তবে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান হয়ে যাবে। এটা আমাদের হাতের বাইরে। বার্মা অ্যাক্ট যদি পড়েন তাহলে বুঝবেন অনেক বড় কারণ রয়েছে এর পেছনে, এটা আমাদের নাগালের বাইরে।

নয়া দিগন্ত : রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনাকে হতাশ মনে হচ্ছে, তরুণদের তাহলে কী বলবেন?

রেজা কিবরিয়া : আমি কিছুদিনের মধ্যে বক্তব্য রাখব; কিন্তু তরুণরা যেন ভুল পথে না যায় এতটুকুই। তারা পড়াশুনা যেন করে। পড়াশুনা করে রাজনীতি করো। অর্ধশিক্ষিত লোকজনকে দিয়ে রাজনীতি করতে যেয়ে তারা দেশটাকে ডুবাচ্ছে। এই ন্যাশনাল চিলড্রেনস পার্টি; আমি এগুলো একেবারেই অপছন্দ করি। পড়াশুনা শেষ না করে রাজনীতিতে আসা ঠিক না। আর হালাল উপার্জনের কোনো লক্ষণ নেই যে লোকটার তার রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।

বিষয়সমূহ