দিনটি শুধু মায়ের : মো: আব্দুর রহমান

Printed Edition
agdum-2
দিনটি শুধু মায়ের : মো: আব্দুর রহমান

প্রতিদিনের মতো আজও সজীবকে মা নিজের হাতে আদর করে তরকারি দিয়ে মেখে ভাত খাইয়ে দিলো। খাওয়ার পর মুখটা নিজের আঁচল দিয়ে মুছেও দিলো। জামাকাপড় পরিয়ে দিলো এবং গালে একটি আলতো করে চুমু দিয়ে বলল, ‘যাও বাবা ভালো করে মন দিয়ে পড়াশোনা করবে, একটুও দুষ্টুমি করবে না এবং স্কুল ছুটি হলে সোজা বাড়ি চলে আসবে। আমি তোমার জন্য গরম ভাত ও মাছ ভুনা করে রাখব।’

সজীব এবার মাকে জড়িয়ে ধরে একটু হাসি দিয়ে স্কুলে চলে যায়। আর ওর মা সেখানে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে ছেলেকে বিদায় জানায়। মা-ছেলের এই খুনসুটিটুকুর অর্থ- মমতা। এটা ওরা দুজনেই শুধু জানে। আর হয়তো কেউ জানেও না বা জানলেও হয়তো বুঝার চেষ্টা করে না। তবে এর স্বাদ কখনো ফুরায় না, এ কথা সত্য। স্কুলে যাওয়ার পর আজ ওদের মারুফা মিস ক্লাস নিতে এলো। ক্লাসের শুরুতেই বলল, তোমরা জানো আজ একটি বিশেষ দিন। বলো তো- দিনটি কী? ওরা সবাই মিসের মুখের দিকে ডেবরা ডেবরা চোখে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। এবার মিস বলল, ‘তার মানে তোমরা জানো না। শোনো তাহলে- আজ হলো ‘মা দিবস’। তোমরা দেখেছ তোমাদের মায়েরা তোমাদের জন্য সারা বছর কত পরিশ্রম ও আদর করে। তাই তোমাদের উচিত আজ অন্তত একটি দিন মাকে উইশ করা। তখন সীমরান বলল, ‘কিন্তু কীভাবে মাকে উইস করতে পারি মিস?’ ‘কেন! যেকোনো কিছু দিয়ে তোমার মাকে উইশ করতে পারো। যেমন- ফুল, কার্ড, কলম, ডাইরি ইত্যাদি।’ দেখতে দেখতে স্কুল ছুটির ঘণ্টা বেজে উঠল। আজ ক্লাসের পর মায়ের কথা অমান্য করেই বাড়ি না গিয়ে, সোজা সজীব ফুলের দোকানে গেল। ওর দাদুর দেয়া টিফিনের টাকা থেকে বাঁচিয়ে এত দিন যে ৫০ টাকা জমা হয়েছিল, সেটি কেউ জানত না, কাউকে বলেওনি সজীব। এমনকি টাকাটা ওর ব্যাগেই ছিল! ঝটপট টাকাগুলো দিয়ে সুন্দর কিছু রজনী গন্ধার স্টিক কিনে নিলো। এরপর মায়ের কথামতো গুটি গুটি পায়ে বাড়িতে এসে ওর দাদু ও ছোট্ট আন্টিকে ডাকল। ‘সজীবের মা সবেমাত্র রান্না সম্পন্ন করে বেরিয়ে এসেছে। এবার সোনার টুকরোকে দেখে ব্যাগটা ঘার থেকে নিতে দৌড়ে এলো। ও বলল, ‘দাঁড়াও মা, আন্টি একটি ছবি তোলো’। ‘হ্যাপি মাদারস ডে’ বলে ওমনি মায়ের সামনে রজনী গন্ধার স্টিকগুলো ধরল। কিন্তু মা ছেলের কাণ্ড দেখে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল! কিরে বাবা এসব কী? কী করছিস? তখন ওর ছোট আন্টি বলল, ‘ভাবী নাও-আজ মা দিবস। তাই তোমার ছেলে তোমাকে উইশ করছে।’ মা বলল, ‘কিন্তু তুই টাকা পেলি কোথায় বাবা?’ মা এগুলো আমার টিফিনের জমানো টাকা থেকে কিনেছি মা। তুমি খুশি হওনি মা? অবশ্যই বাবা অবশ্যই অনেক অনেক খুশি হয়েছি। কিন্তু তুই না খেয়ে আমার জন্য ফুল কিনতে গেলি কেন বাবা। বারে! তুমি যে আমার জন্য প্রতিদিন এত এত কষ্ট করো, কত কিছু দাও...। আর বছরে একটি দিন শুধু না হয় তোমাকেই আমি দিলাম, তাতে বুঝি দোষ হয়েছে। এবার মা জড়িয়ে ধরে ছেলেকে আনন্দে চোখের পানি মুছতে লাগল। সাথে ওর দাদুও নাতির কীর্তি দেখে আনন্দে চোখের জ্বল ফেলছিল। আর দু’জনকেই মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, ‘বুঝলে বৌ-মা, আমার নাতি প্রমাণ করল, আজকের দিনটি শুধু মায়ের! শুধু মায়ের।’