দেরিতেও বই পাচ্ছে না মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা কম দরের কারণে ছাপায় অনীহা প্রেস মালিকদের
Printed Edition
শাহেদ মতিউর রহমান
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে কম দরের কারণে মাধ্যমিকের বই ছাপায় প্রেস মালিকদের অনীহা দেখা দিয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও অনেক স্কুলে এখনো বই পৌঁছায়নি। এবার সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে অষ্টম শ্রেণীর বই ছাপার কাজে। যদিও প্রাথমিক স্তরের শতভাগ বই ইতোমধ্যে ছাপা এবং সরবরাহ শেষ হয়েছে। বছরের প্রথম দিনে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন এ বছর তুলনামূলক কম দরের কারণে অনেক প্রেস মালিক সময়মতো পাঠ্যবই ছাপার কাজই শুরু করেননি। এর মধ্যে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্যমতে এখনো পর্যন্ত অষ্টম শ্রেণীর মোট বইয়ের অর্ধেকের ছাপার কাজই শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যবই নিয়ে শুরু থেকেই শঙ্কা ছিল। কিন্তু এর পরও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রথম থেকেই প্রেস মালিকদের বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিয়ে সময়মতো বই ছাপার কাজে গতি ফেরানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু মূল সমস্যা হলো বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার মাধ্যমিকের বইয়ের ফর্মা প্রতি কম দামের কারণে অনেক প্রেস মালিকই নিজেদের ফাঁদে পড়ে যায়। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজ পাওয়ার জন্য কম দর দিয়ে টেন্ডার জমা দেয়ায় এখন সেই ফাঁদেই তারা আটকে গেছেন। ফলে এখন কম মুনাফায় পাঠ্যপুস্তক ছাপতে হচ্ছে।
এনসিটিবির টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জড়িত এক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, এবার মাধ্যমিকের বইয়ের প্রতি ফর্মার প্রাক্কলিত দর নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন টাকা ৪০ পঁয়সা। কিন্তু কিছু প্রেস মালিকের চেয়েও কম দর দিয়ে টেন্ডার জমা দেন। এতে সর্বোনিম্ন দরদাতা হিসেবে তারাই কাজ পেয়েছেন। এভাবে অষ্টম শ্রেণীর বইয়ের প্রতি ফর্মার দর জমা পড়েছে মাত্র দুই টাকা ৮৩ পয়সা। আর এতেই ফেঁসে গেছেন অনেক প্রেসমালিক। তবে প্রতি বছরের মতো এবারো ভালো মানের এবং সময়মতো বই পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে প্রাথমিকের ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি।
এনসিটিবির উৎপাদন-নিয়ন্ত্রক সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ২১ কোটির বেশি বই ছাপানো হচ্ছে। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণীর বইয়ের সংখ্যা চার কোটি ৪৩ লাখের বেশি, সপ্তম শ্রেণীর চার কোটি ১৫ লাখের বেশি ও অষ্টম শ্রেণীর মোট বই চার কোটি দুই লাখের বেশি। নবম শ্রেণীর মোট পাঠ্যবই পাঁচ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার ২৮ কপি।
এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মো: মতিউর রহমান পাঠান গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান, অষ্টম শ্রেণীর বই নিয়ে যেভাবে শঙ্কার কথা ছড়ানো হচ্ছে, বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। কেননা আমাদের কাছে সর্বশেষ যে তথ্য আছে, সেখানে গতকাল পর্যন্ত অষ্টম শ্রেণীর অর্ধেকের বেশি স্কুলে স্কুলে পৌঁছে গেছে। শতকরা হিসেবে এই হার ৫১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর ছাপা শেষ হয়েছে ৭১ দশমিক ৩১ শতাংশ বইয়ের। যদিও এরপরে কাটিং, বান্ডিং এবং প্রি ডেলিভারি পরিদর্শনের কিছু কাজ বাকি থাকে। তার পরও আমরা আশা করছি, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই শুধু অষ্টম শ্রেণী নয়, মাধ্যমিকের সব শ্রেণীর সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। আমরা সেভাবেই সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।