নর্থ টাউন প্রকল্পে দখল-দূষণের অভিযোগ
টঙ্গীতে ২৬ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি আবাসন
Printed Edition
মো: আজিজুল হক গাজীপুর মহানগর
পরিকল্পিত নগর গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু হওয়া গাজীপুরের টঙ্গীর ‘নর্থ টাউন’ আবাসন প্রকল্প এখন দখল, অনিয়ম ও দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২৬ বছরেও প্রকল্পে আবাসন গড়ে না ওঠায় এলাকাটি পরিণত হয়েছে পতিত ভূমিতে। এ দিকে সরকারি রাস্তা ভরাট করে প্লট বিক্রি, কৃষিজমি দখল ও চলাচলে বাধা দেয়ার অভিযোগে প্রকল্পটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাগুরা শিল্পগোষ্ঠীর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (বিডিসি) পরিচালিত এই প্রকল্পে প্রায় ২৫-৩০ বিঘা কৃষিজমি বালু দিয়ে ভরাট করে দখলে রাখা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা। এতে দীর্ঘদিন ধরে ফসল উৎপাদন বন্ধ থাকায় কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ‘পরিকল্পিত সোনার দেশ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পে ১৯৯৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকে প্লট বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। স্বল্পমূল্য ও আধুনিক সুবিধার প্রতিশ্রুতিতে বিপুল আগ্রহ সৃষ্টি হলেও দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৫৮ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা প্রকল্পে জলাভূমি ও আবাদি জমি ভরাট করে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের ভেতরে থাকা প্রায় চার বিঘা সরকারি গ্রামীণ রাস্তা বালু দিয়ে ভরাট করে প্লটে রূপান্তর করে বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া গেট বসিয়ে তালা দিয়ে রাখায় তিনটি গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অনেককে বিকল্প পথে অতিরিক্ত কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, হানিফ মাতাব্বর, আমজাদ মাতাব্বর, নূর ইসলামসহ একাধিক জমির মালিকের জমি দখলে নেয়ায় গত ২৬ বছর ধরে সেখানে কোনো ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়নি। এতে প্রতি বিঘায় লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, নিজের জমিতে কাজ করতে গেলে প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা ও হুমকি দেয়।
আইন অনুযায়ী সরকারি রাস্তা বা জনসাধারণের জমি দখল এবং কৃষিজমি ভরাট করে ব্যবহার পরিবর্তন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অবস্থায় বিষয়টি তদন্তে নেমেছে প্রশাসন। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (গাউক) ও পুলিশও বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, জমি সংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে এবং তা সমাধানের চেষ্টা চলছে।