৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে রাতে চোরাগোপ্তা মিছিল করাচ্ছে আ’লীগ
মিছিলে ব্যয়ের বেশির ভাগ টাকা দেয়া হয় মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। সেটা কখনো কখনো মিছিলের আগেই পরিশোধ করা হয়। আবার কখনো পরে।
Printed Edition
রাতের চোরাগোপ্তা মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের জনপ্রতি দেয়া হচ্ছে ৫ হাজার টাকা। মিছিলের সামনের সারিতে থাকাদের জন্য বরাদ্দ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। আর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে তাকে দুই মাসের মধ্যে জামিনে আনতে যত খরচ লাগবে তার পুরোটাই বহন করবে মিছিলের আয়োজকরা। এমন প্রতিশ্রুতিতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে চলছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের রাতের চোরাগোপ্তা মিছিল।
সম্প্রতি রাতের মিছিল থেকে গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন পুলিশকে এমন তথ্য দিয়েছে। মিছিলে ব্যয়ের বেশির ভাগ টাকা দেয়া হয় মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। সেটা কখনো কখনো মিছিলের আগেই পরিশোধ করা হয়। আবার কখনো পরে। মোবাইল অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কারণে মিছিলকারীদের অনেকই জানতে পারে না টাকাগুলো কে, কোথা থেকে দিচ্ছে। তবে মিছিলের নির্দেশদাতা ও টাকার জোগানদাতাদের সন্ধানে নামছে পুলিশ। একটি সূত্র বলছে, আসলে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের দোসরদের হাতে অনেক টাকা রয়েছে। দেশ থেকে চুরি করে নেয়া ওই টাকাই এখন নৈরাজ্য সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের রক্তের দাগ না মুছতেই সক্রিয় হয়ে উঠছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রায় প্রতি রাতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তা বিক্ষোভ মিছিল করছে তারা। মিছিলে অংশ নেয়া অনেকের বিরুদ্ধেই ছাত্র-জনতা হত্যার মামলা রয়েছে। আবার অনেকেই কোনো রাজনীতির সাথেই জড়িত না। কোনো কিছু না বুঝে টাকার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা মিছিলে অংশগ্রহণ করছে।
জানা গেছে, আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় কবে কখন কোথায় চোরাগোপ্তা মিছিল করা হবে। ওই মিছিলে কে কে উপস্থিত থাকবে সেটিও আগে থেকেই ঠিক করা হয়। গোপনে তৈরি করা হয় ব্যানার। এরপর যারা উপস্থিত থাকে তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হয়। ওই নম্বরে পাঠিয়ে দেয়া হয় টাকা। রাতের কোন সময় রাস্তার কোন পয়েন্ট থেকে মিছিল শুরু হবে তা এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়। এদের এক গ্রুপ আলাদাভাবে রাস্তায় পুলিশের অবস্থান ঠিক করে থাকে। পরিবেশ অনুকূল হলেই মোবাইলে সিগন্যাল দেয়া হয়। এরপরই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তারা একসাথে হয়ে ১০/১২ সেকেন্ড মিছিল করে। সেটি ভিডিও করে পাঠানো হলেই ওই নেতাদের কাছে টাকা পাঠিয়ে দেয় দায়িত্বরতরা। মিছিল থেকে কেউ গ্রেফতার হলে তাকে ছাড়িয়ে আনার দায়িত্বও মিছিলের আয়োজকদের। যত টাকাই প্রয়োজন হোক না কেন দুই মাসের মধ্যে তার জামিনের ব্যবস্থা করতে হবে।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশে ও দেশের বাইরে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নির্দেশায় মিছিল করা হচ্ছে। মিছিলের জন্য ওই নেতারা বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় করছেন। দেশে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে ওই টাকা। তবে একদম মাঠপর্যায়ের ভাড়াটিয়াদের নগদ দেয়া হয়। বলা হচ্ছে শুধু মিছিল নয়, তারা যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে। তবে এখনই সাহস না পাওয়ায় মিছিলের সময় কয়েক সেকেন্ড হয়ে থাকে। এখনই দমন করতে না পারলেও শুধু মিছিল নয়, বড় ধরনের নাশকতা করতে ছাড়বে না তারা।
তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সব ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে মাঠ পুলিশকে কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় তল্লাশি চালিয়ে তাদের গ্রেফতারে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে ডিএমপির ক্রাইম ও গোয়েন্দা বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পটপরিবর্তনের পর রাজধানীতে কারা কোথায় বসবাস করছেন তাদের বিষয়ে তথ্য নিতে নাগরিক তথ্য হালনাগাদকরণে বা সিআইএমএস (সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) ফরম পূরণের ওপর জোর দিয়েছেন কমিশনার। বলা হচ্ছে, অনেকে নতুন করে ঢাকায় আসছেন আবার অনেকে ঢাকা ছেড়েছেন। তাদের তালিকা তৈরি করে নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। মামলা ও ওয়ারেন্ট থাকা আসামিদের গ্রেফতারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের ওপরও চাপ দেয়া হচ্ছে। পেন্ডিং ওয়ারেন্টের সংখ্যাই বেশি থাকছে। এর ফলে অনেক আসামি সুযোগ নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাত আলী বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে অনেক টাকা দিয়ে মিছিল করানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যাতে কেউ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে।