প্রথম দিনের অনুশীলনে স্বস্তি
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
একে তো বাংলাদেশের চেয়ে শক্তির বিচারে বেশ এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। তার ওপর নিজেদের মাঠে খেলা। সব মিলিয়ে আসন্ন সিরিজে ফেবারিটের তকমা থাকছে অসিদের গায়েই। অবশ্য বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটা গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে প্যাট কামিন্সের দল। কিছুটা আগেভাগেই অস্ট্রেলিয়া পৌঁছেছে বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে বিশ্রাম নিয়ে গতকাল প্রথমবারের মতো দলীয় অনুশীলন শুরু করেছে শান্ত-মুশফিকরা। ওয়ার্ম আপ শেষে অনুশীলনের আগে ক্রিকেটারদের সাথে কথা বলেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, সিমন্স যেন সে বার্তাই দিচ্ছিলেন শিষ্যদের।
বিসিবির পাঠানো ভিডিওতে দেখা গেছে, পুরো দলের আগেই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে যাওয়া তাসকিন আহমেদ বেশ ফুরফুরে মেজাজেই অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। হাতে দু’টি ব্যাট নিয়ে মাঠে প্রবেশ করা তাসকিন পরে অবশ্য নিজের মূল দায়িত্ব বোলিং অনুশীলনেই মনোযোগ দেন। পার্থে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার পর দলের সাথে যোগ দিয়েছেন এই পেসার। দীর্ঘ দিনের গোড়ালি ও কাঁধের চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সেখানকার কন্ডিশন নিয়ে। তাসমান পাড়ের দেশটিতে এর আগে সবশেষ ২০০৩ সালে টেস্ট খেলেছিল এশিয়ার দলটি। ২৩ বছর পর আবার অসিদের মাঠে লম্বা সংস্করণে মাঠে নামার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্কদের সামনে। ব্যাটাররা সে পরীক্ষায় পাস করবে কি না- সেটা এখনই বলার উপায় নেই। তবে প্রথম দিনের অনুশীলনে শতভাগ মনোযোগ ছিল সবার। নেটে লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং-বোলিং করেছেন ক্রিকেটাররা। অধিনায়ক শান্তকে বল ছুড়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। পাশের নেটে এক ব্যাটারকে ব্যাটিংয়ের শ্যাডো করে দেখাচ্ছিলেন স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। বাংলাদেশের বোলারদের পাশাপাশি এদিন নেট বোলাররাও হাত ঘুরিয়েছেন দীর্ঘক্ষণ। সাদমান, মুশফিক, অমিতরাও ব্যাটিং সেরেছেন দারুণভাবেই। বোলিংয়ে তাসকিন, খালেদ আহমেদ, মুশফিক হাসানরাও যেন প্রথম দিনেই কন্ডিশন বুঝে নিয়ে নিজেদের গতিতে বল করেছেন। ডারউইনে অনুশীলনের সব রকমের সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ।
শুধু টিকে থাকতে চায় না বাংলাদেশ : সুমন
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কেমন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের কিংবা সম্ভাবনাই বা কতটুকু আছে এসব নিয়েই কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বরাবরই বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন পেসাররা। অসিদের আছে প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক, জশ বোল্যান্ডদের মতো দুর্দান্ত সব পেসার। তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের যে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে, সেই বাস্তবতা বুঝতে পারছেন সুমন। তবে বাংলাদেশ যে এবার আর শুধু খেলার জন্যই খেলবে না, সেটাও জানিয়ে দিলেন সুমন, ‘চ্যালেঞ্জ ২৩ বছর আগেও ছিল, এখনো আছে। তখন লক্ষ্য এক রকম ছিল, এখন ভিন্ন। তখনকার প্রেক্ষাপট এক রকম ছিল, এখন ভিন্ন। তখন মূল লক্ষ্য ছিল সার্ভাইভ করা। এবার শুধু সার্ভাইভ নয়, ভালো কিছু করতে চাই।’
এই সফরে সেরাটা দিতে বদ্ধপরিকর ক্রিকেটাররা। এই প্রসঙ্গে সুমনের বার্তা, ‘বিশেষ কিছু করে তাদের ক্যারিয়ারে মনে রাখার মতো কিছু করতে চায় সবাই। আমরা জানি যে চ্যালেঞ্জটা অনেক বেশি। অবশ্যই অস্ট্রেলিয়া খুব শক্তিশালী দল। কিন্তু সবাই এমন কিছু করতে চায়, যেটা সারা জীবন মনে রাখতে পারবে, যেটা তাদের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন হতে পারে। আমার মনে হয়, সবাই খুব ইতিবাচক। জানি কাজটা কঠিন, অবশ্যই কঠিন। কিন্তু কাজটা করতে পারলে সবারই ভালো লাগবে।’
লিটনের ফেরা নিয়ে সুমন বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত তিন সদস্য বাইরে চলে গিয়েছিল। নাহিদ রানা, শরিফুল, লিটন। লিটনকে ফিরে পেয়েছি, এটা খুবই ভালো। নাহিদ রানাকে হয়তো পাবো না। শরিফুলকেও যদি পাই, তাহলে সেটা আমাদের জন্য অনেক ভালো হবে। তবে লিটনের ফেরা অবশ্যই ইতিবাচক। আমাদের ব্যাটিংটা একটু শক্ত হলো।’
দ্বিতীয় টেস্টে শরীফুলকে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী এই নির্বাচক, ‘আমি আশাবাদী। ওর অগ্রগতিটাও লিটনের মতো খুব ভালো হচ্ছে। তবে যেহেতু সে একজন পেসার, পেসারদের জন্য তো কাজের চাপ আরেকটু বেশি দিতে হয়। সে কারণে হয়তো লিটনের মতো সিদ্ধান্ত এখনো ওর ক্ষেত্রে নেয়া হয়নি। তবে আমি আশাবাদী, দ্বিতীয় টেস্টে ওকে মাঠে পেয়ে যাবো।’
সব ধরনের অ্যাক্টিভিটি করতে পেরেছি : তাইজুল
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট খেলতে গিয়েছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে যে ভেনুতে খেলেছিল, এবারো সেই ডারউইনে পা রেখেছে তারা। মেলবোর্ন, সিডনি বা অ্যাডিলেডের মতো অস্ট্রেলিয়ার মূল ভেনুগুলোতে খেলার সুযোগ মেলেনি। তবে আনকোরা ডারউইনেও সুযোগ-সুবিধার কোনো ঘাটতি নেই। অনুশীলন সেশন করে ফুরফুরে নাজমুল হোসেন শান্তরা। বাঁ হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম জানান, উন্নতমানের সুযোগ-সুবিধা থাকায় সেরা প্রস্তুতি নিতে পারছেন তারা। ‘সবকিছু মিলিয়ে প্রথম দিনের প্রস্তুতিটা ভালো হয়েছে। এখানে সুযোগ-সুবিধা খুব ভালো। উইকেট, ফিল্ডিং অনুশীলন থেকে শুরু করে রানিং, সব ধরনের অ্যাক্টিভিটি আমরা করতে পেরেছি।’
বাংলাদেশ থেকে ডারউইনে পৌঁছাতে মধ্যে একটা ট্রানজিট ছিল। তাতে বিশ্রামের জন্য সুবিধা হয়েছে বলে জানান তাইজুল, ‘বাংলাদেশ থেকে যাত্রাটা ভালো ছিল। কারণ, আসার সময় আমরা একটা ট্রানজিট পেয়েছি। ওখানে যথেষ্ট বিশ্রাম পাওয়া গেছে।’