মুসাব্বির হত্যা : শুটার জিন্নাতের দোষ স্বীকার, রিমান্ডে ৩ জন
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার তেজতুরী বাজারে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার এক আসামি আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন। এ ছাড়া আরো তিন আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর মধ্যে শুটার মো: জিন্নাত দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন। রিমান্ডে নেয়া আসামিরা হলেন- দুই সহোদর মো: বিল্লাল (২৯), মো: আব্দুল কাদির এবং মো: রিয়াজ। গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাদের রিমান্ডের আদেশ দেন। একই দিনে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক আসামি জিন্নাতের জবানবন্দী রেকর্ড করেন।
এ দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনের পরিদর্শক মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম চার আসামিকে আদালতে হাজির করেন। জিন্নাত (২৪) স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন জানানো হয়। অন্য দিকে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য মামলার অন্য তিন আসামি- বিল্লাল, রিয়াজ (৩২) ও আব্দুল কাদিরকে (২৮) সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে তাদের প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে বাকি যারা আছে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মুসাব্বির বিগত সরকারের সময় ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। জেল থেকে বের হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় তাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হামলায় সুফিয়ান মাসুদ নামে আরো একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মূল শুটার রহিম এখনো পলাতক। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও অস্ত্র উদ্ধারসহ ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা আছে, তা জানতে রিমান্ডের প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে তেজতুরী বাজারে হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে মুসাব্বির ও সুফিয়ান বেপারী মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মুসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদি হয়ে তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ডিবি পুলিশ ঢাকা, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে এই চারজনকে গ্রেফতার করে।