ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে শাহবাগ থানা ঘেরাও

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে শাহবাগ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে জড়ো হয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সোমবার রাতে উদ্যান এলাকায় পুলিশের ‘মাদকবিরোধী অভিযান’-এর সময় শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দীনসহ কয়েকজনকে মারধর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় দুই সাংবাদিকও আহত হন। তারা হলেন- বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের তোফায়েল আহমেদ এবং আজকের পত্রিকার কাউসার আহমেদ রিপন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক সাংবাদিককে লাঠিপেটার দৃশ্য দেখা যায়।

অভিযান চলাকালে তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দীনের ওপর হামলার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের সাথে কথা বলার সময় তাকে পেছন থেকে টেনে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাফিরা জাহান বলেন, নাগরিক হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশ্ন করার অধিকার সবার রয়েছে। প্রশ্ন করলেই যদি মারধর করা হয়, তাহলে সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।

থিয়েটার বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম বলেন, আজ একজনকে সন্দেহের ভিত্তিতে হেনস্তা করা হলে কাল অন্য কেউ একই ঘটনার শিকার হতে পারেন। পুলিশের এ ধরনের আচরণ বন্ধ হওয়া জরুরি।

বিক্ষোভ শেষে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো- অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাস এলাকায় হয়রানি ও অযৌক্তিক পুলিশি তৎপরতা বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা। এ দিকে একই ঘটনার প্রতিবাদে দুপুরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। ঘটনার বিষয়ে নাঈম উদ্দীন বলেন, তারা উদ্যান এলাকায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আমাদের কাছে অবৈধ কিছু না পেয়ে তর্কের অভিযোগ তোলা হয়। পরে আমাকে ও আমার এক বন্ধুকে মারধর করা হয়।

ঢাবি শিক্ষার্থীকে পুলিশি হেনস্তার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ : জাবি প্রতিনিধি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিনকে হেনস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একদল শিক্ষার্থী।

গতকাল দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী দুর্বার আদি বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা আশা করেছিলাম, রাষ্ট্রীয় বাহিনী আর ব্রিটিশ আমলের কায়দায় মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে না। নাগরিক অধিকার নিয়ে সবাই সুস্থভাবে বাঁচতে পারবে। কিন্তু গতকাল রাতের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশে আমরা কেউ নিরাপদ নই। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার এক মাসও হয়নি, অথচ তারা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হামলা-দাদাগিরি সামলাতে পারছে না। সরকার যদি এখনই এর লাগাম টেনে ধরতে না পারে, তবে আমরা হয়তো আবারো একটি পুলিশি রাষ্ট্রের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ বলেন, পোশাক পাল্টালেও পুলিশের চরিত্র বদলায়নি। পুলিশ সংস্কারের নামে গঠিত কমিশন আসলে কী করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী জাবি শাখার সংগঠক সোমা ডোমরি বলেন, রাস্তা বা পার্কে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা একজন নাগরিকের অধিকার। তাকে যখন বিনা কারণে আটকে হেনস্তা করা হয়, তখন তা স্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্য ক্লোজড : রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে শিক্ষার্থী ও দায়িত্বরত সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় জড়িত পুলিশের চার সদস্যকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। গতকাল ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো: মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিসি মাসুদ বলেন, সোমবার রাতের শিক্ষার্থীর সাথে কথা কাটাকাটির জেরে দুই পক্ষের একটু বাড়াবাড়ির কারণে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় জড়িত চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় আরো দুই-তিনজনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, সোমবার রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থী ও দায়িত্বরত সাংবাদিকদের হেনস্তা ও মারধর করে উৎসুক কয়েকজন পুলিশ সদস্য। সে সব ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।