বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে উঠছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা

১২০০ একর জায়গায় অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চায়না ইকোনমিক জোন

Printed Edition

এস এম রহমান দক্ষিণ চট্টগ্রাম

সময়ের তালে দ্রুত বদলে যাচ্ছে সাগর ও নদীবেষ্টিত চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা। এক হাজার ২০০ একর জায়গা নিয়ে পৃথকভাবে গড়ে উঠছে চায়না ইকোনমিক জোন ও মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল। যা আগামীতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (বেজা) নির্বাহী পরিচালক মো: আবু তাহের জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর এ বিষয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন লাভ করে চার হাজার ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আনোয়ারা চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প প্রকল্প (সিইআইজেড)।

জানা গেছে, বেজার এ প্রকল্পের আওতায় শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে এক হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক সড়ক, এক হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ প্রধান সড়ক নির্মাণ, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন পানি সংরক্ষণাগার, ৪.২৪ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন ও ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন (উজঝ), ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রাল ইফুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ঈঊঞচ), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বহুমুখী জেটি, ৬০ টন দৈনিক সক্ষমতার সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন, প্রায় ১২ কিলোমিটার বাউন্ডারি ওয়াল এবং দু’টি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন নির্মাণ। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ডিসেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় চার হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এবং প্রায় এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে। বৈদেশিক অর্থায়নের অংশ চীনের এক্সিম ব্যাংকের বা অগ্রাধিকারমূলক ক্রেতা ঋণ (পিবিসি) সুবিধার আওতায় প্রাপ্তির প্রস্তাব রয়েছে।

বেজা থেকে আরো জানানো হয়, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে প্রায় ৭৮৩ একর জমির ওপর জি টু জি ব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠছে সিইআইজেড।

প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষর হলে মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হবে। জানা গেছে,২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় এ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে বর্তমান সরকার।

এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আহরণের সুযোগ তৈরি হবে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় ভৌগোলিকভাবে এই অঞ্চলটির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বেজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর বিভিন্ন অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ এবং শিল্প অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৪০০ একর জায়গায় স্থাপিত হচ্ছে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি সিসিইএ সভায় প্রস্তাব অনুমোদন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বাংলাদেশে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে জানিয়েছেন বেজার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আবু তাহের।

বেজা কর্তৃপক্ষ জানান, আনোয়ারায় দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালার সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে দেশে একটি আধুনিক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বর্তমান সরকার।