সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি আবাসিক হোটেলের নিচতলার পরিত্যক্ত কক্ষে স্ট্রোকে মারা গেছেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের প্রবাসী মো: শান্ত আহমেদ (২৩) নামে এক যুবক।

শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় নিহতের প্রতিবেশী ও সৌদি আরব প্রবাসী মো: ফরহাদ হাজারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মো: শান্ত আহমেদ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর (প্রকাশ ছুপুয়া) গ্রামের ওমান প্রবাসী আবদুল কাদেরের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উন্নত জীবনের আশায় গত বছরের ২৩ মে সৌদি আরবে যান শান্ত আহমেদ। সেখানে দীর্ঘদিন কর্মসংস্থানের সঙ্কটে থাকার পর চার দিন আগে রিয়াদের আল আরিদ আবাসিক হোটেলে ক্লিনার হিসেবে কাজ শুরু করেন। হোটেলের নিচতলার একটি পরিত্যক্ত কক্ষেই তার রাতের থাকার ব্যবস্থা ছিল। শুক্রবার ভোরে ওই কক্ষেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তাকে সমুছি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে হার্টস্ট্রোকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শান্তর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে তার বাবা-মা, দুই বোন, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

রিয়াদে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসীর অভিযোগ, রিয়াদের ওই আবাসিক হোটেলের একেবারে নিচতলার যে কক্ষে শান্ত থাকতো, সেটা বিদ্যুৎ না থাকলে কবরের মতো। বিদ্যুৎ না থাকলে অক্সিজেন সঙ্কট। হয়তো বিদ্যুৎ চলে যাওয়া আতঙ্কে স্ট্রক করে তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের প্রতিবেশী ও সৌদি আরবপ্রবাসী মো: ফরহাদ হাজারী বলেন, ‘রেমিটেন্সযোদ্ধা শান্ত আহমেদের লাশ দেশে নিতে মানবিক প্রবাসী ইমাম হোসাইনের নেতৃত্বে একটি টিম সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। আমরা বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি, যাতে দ্রুত তার লাশ জন্মভূমিতে নেয়া যায়।

এদিকে শান্ত আহমেদের লাশ দেশে নিতে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও সৌদিআরব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নিহতের মা শেফালী বেগম ও বাবা আবদুল কাদেরসহ স্বজনরা।